২৬, এপ্রিল, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ১০ শা'বান ১৪৩৯

যে পদ্ধতিতে করা হচ্ছে প্রশ্নফাঁস

আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ০২:১৯ এএম

যে পদ্ধতিতে করা হচ্ছে প্রশ্নফাঁস
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে সরকারি ব্যাংকের তিন কর্মকর্তাসহ প্রশ্ন ফাঁস চক্রের ১০ গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।   এ সময় তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ইলেকট্রিক ডিভাইস এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। 

 চক্রটি বিশেষ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা এবং বিশ্বিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে আসছিল বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।  এদিকে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে রমনা থানায় আইসিটি আইনে একটি মামলা
করা হয়েছে।  এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক সহ ২জন পলাতক রয়েছে। 

বেশ কিছুদিন ধরেই একটি চক্র বিভিন্ন ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস করে আসছিল।  বিষয়টি বেশি আলোচনায় আসে সম্প্রতি শেষ হওয়া এসএসসি এবং কয়েকটি সরকারী নিয়োগ পরীক্ষার বেশিরভাগ প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার পর।   

এসব ঘটনা সামনে রেখে প্রশ্ন ফাঁস কারীদের ধরতে অভিযানে নামে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ।  কিছুদিন অনুসন্ধানের পর গোয়েন্দারা একটি প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়, যারা বিশেষ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে মোবাইল সিমের মাধ্যমে পরীক্ষার সময় উত্তর সরবারহ করে। 

শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চালানো হয় অভিযান।  এ সময় প্রতারক চক্রের ১০ জনকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা পুলিশ।  যার মধ্যে সরকারি তিনটি ব্যাংকের কর্মকর্তা, ইঞ্জিনিয়ারসহ বিভিন্ন পেশার কর্মকর্তারা রযেছেন।  তাদের কাছ থেকে বেশ কয়েকটি ইলেকট্রিক ডিভাইস এবং মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। 

শনিবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার আব্দুল বাতেন জানান, বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে গোয়েন্দাদের নজরদারির কারণে প্রশ্ন ফাঁসকারি প্রতারক চক্র প্রশ্ন ফাঁসের নতুন পদ্ধতি বের করে।  তারই অংশ হিসেবে তারা ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষার সময় প্রশ্ন ফাঁস করে। 

তিনি বলেন, 'তারা যে প্রতারণা করে সেটা বিভিন্ন চাকরির, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার সময় বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে প্রতারণার আশ্রয়টা নিয়ে থাকে। '

তিনি আরও বলেন, চক্রটির একজন করে সদস্য পরীক্ষার হলের ভেতরে থাকেন, যারা প্রশ্ন পাওয়ার সাথে সাথে ডিভাইসের মাধ্যমে বাইরে থাকা সহযোগীদের প্রশ্নটি সম্পর্কে ধারণা দেয়।  পরবর্তীতে তারা স্বল্প সময়ের মধ্যে সেগুলো সমাধান করে পরীক্ষার্থীদেরকে উত্তর সরবারহ করে থাকে। 

এই চক্রের অন্যতম সদস্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক আবু জাফর মজুমদারসহ পলাতক রয়েছে ২জন। 

এদিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার এমসি একাডেমিতে এইচ এস সি পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়ালে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

মন্ত্রী বলেন, 'মানুষের পক্ষে যা যা করা সম্ভব আমরা তাই করেছি।  এর বেশি করা সম্ভব না। '

সরকারি সিকিউরিটি প্রেসে কড়াকড়ি আরোপের ফলে প্রশ্ন ফাঁস রোধ সম্ভব হয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।