১৭, জানুয়ারী, ২০১৮, বুধবার | | ২৯ রবিউস সানি ১৪৩৯

চলচ্চিত্রে পোস্টারের প্রয়োজন কেন?

আপডেট: ১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০৫:৩৭ পিএম

চলচ্চিত্রে পোস্টারের প্রয়োজন কেন?

কাকরাইলের সিনেমাপাড়ায় মাঝেমধ্যে ঢুঁ মারতে হয়। হরেক রকম সিনেমার পোস্টার চোখে পড়ে। একসময় দেখতাম শিল্পা শেঠির শরীরে শাবনুরের মাথা বসানো, সালমান খানের শরীরে শাকিব খানের মাথা। হলিউডের এক নায়কের শরীরে অনন্ত জলিলের মাথাও দেখি। এরকম ভুরি ভুরি উদাহরণ আছে। কথা হচ্ছে, বিদেশি পোস্টার থেকে আইডিয়া নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু হবহু কপি কেন করতে হবে? তা ছাড়া সালমান খানের শরীরে যদি শাকিব খানের মাথা বসানো হয়, এটা কি দর্শকের সঙ্গে প্রতারণা নয়? কারণ ছবিতে তো এই দৃশ্য থাকবে না।

আরো অবাক হই, যখন দেখি পোস্টারগুলোতে সেন্সরবোর্ডের সিল মারা থাকে।

এখন স্যোসাল মিডিয়ার সময়। মুহূর্তেই যে কোন কিছু ভাইরাল হতে সময় লাগে না। এখন কোন কিছু নকল বা অনুপ্রাণিত হলেও মুহূর্তেই সেটা প্রকাশ হয়ে যায়। সর্বশেষ প্রকাশ হলো ‘পোড়ামন ২’ সিনেমার পোস্টার। ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে পোস্টারটি। আলোচনার সঙ্গে সমলোচনাও হয়েছে পোস্টারটির গায়ে নকলের অভিযোগ দিয়ে।হোমল্যান্ড, অ্যাটফাইভ আফটারনুন, ওমেন উইদাউট ম্যান, ওসামা, অ্যাট ফাইভ আফটারনুন সিনেমাগুলোর পোস্টারের সঙ্গে মিল রেখে নাকি এ পোস্টার বানানো হয়েছে। যদি সবগুলো পোস্টার দেখে থাকুন। তাহলে আপনার কাছে এমনটা মনে হওয়ার কোন কারণ নেই।

সিনেমার সোনালী দিনে ফেসবুক ছিল না। সিনেমার প্রচারণার অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল পোস্টার। তা দেখে হলে ভিড় করতো দর্শক। ঢাউস, বড়সড়, রংচঙে পোস্টারগুলোর কথা মনে আসে, তাই না? কিন্তু সেগুলোর মধ্যেও সুন্দর একটা শিল্পসত্তা উঁকিঝুঁকি মারত। কারণ একটাই। সেই পোস্টারগুলো বেশ যত্ন করে হাতে আঁকা হত। এখনকার ডিজিটাল পোস্টারগুলোতে কিন্তু সেই গুণ নেই। পোস্টারে এমন কিছু কী আছে যা দর্শকদের সিনেমা হলে নিতে পারে? আগে কিন্তু পারতো। সেই সাদামাটা পোস্টারেও শিল্পগুন পূর্ণ ছিল।

পোস্টার ছাড়া চলচ্চিত্র এক রকম অসম্পূর্ণই থেকে যায়। পোস্টার কেবল চলচ্চিত্রের প্রচারণার উপকরণ হিসেবেই কাজ করে না, চলচ্চিত্রটির অস্তিত্বের প্রতিনিধিও হয়ে ওঠে সেটি। একটি ভালো পোস্টার যেমন একটি সুন্দর চলচ্চিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে, সেই নিয়ম মেনেই খারাপ চলচ্চিত্রের পোস্টারও কুৎসিত-ই হয়।

একটি সিনেমার পোস্টার কালের সাক্ষী হয়ে থাকে। মুখ ও মুখোশ থেকে শুরু করে প্রতিটি বাংলা চলচ্চিত্রের পোস্টারই সেই সব চলচ্চিত্রের সার্থক প্রতিনিধি। আমরা অনেকেই মুখ ও মুখোশ সিনেমাটি দেখিনি। কিন্তু তার পোস্টার সহজেই দেখতে পাই বা চিনতে পারি। তেমনি চলচ্চিত্রে যখন অশ্লীলতার জোয়ার চলছিল, সেই খবর জানার জন্য সেই সময়ের কদর্য চলচ্চিত্রগুলো দেখার আদৌ প্রয়োজন নেই। সেই সময়ের চলচ্চিত্রগুলোর পোস্টারের দিকে তাকালেই তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

বিভিন্ন সময়ে ঢাকায় যেমন অসাধারণ কিছু চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, তেমনি সেগুলোর প্রচারণার জন্যও বানানো হয়েছে মনকাড়া সুন্দর সব পোস্টার। তবে সংরক্ষণের অভাবে যেখানে আমাদের পুরনো অনেক চলচ্চিত্রই হারিয়ে গেছে, অধিকাংশ পুরনো পোস্টারই নতুন প্রজন্মের দেখার সৌভাগ্য হয় না। তারপরও যে পোস্টারগুলো পাওয়া যায়, তার মধ্যে এমন কিছু পোস্টারও আছে, যেগুলোর দুর্দান্ত ডিজাইন ও অনন্য ভাবনা বিশেষভাবেই মনোযোগ আকর্ষণ করে।

ইদানিং আলোচিত অনেক সিনেমার পোস্টারকে ঘিরেই নকলের অভিযোগ উঠে। এর মধ্যে ‘অস্তিত্ব’র সঙ্গে ‘কৃষ’, `নিয়তি`র সঙ্গে `চালো ড্রাইভার`, ‘সুলতানা বিবিয়ানা’ থেকে ‘দৃশ্যম’, ‘ডুব’ থেকে ‘রকি ফোর’, ‘আয়নাবাজি’র পোস্টার হলিউড ছবি ‘হাউস অফ স্যান্ড অ্যান্ড ফগ’ ও ‘রাইজিং কেইন’ এবং তেলেগু ছবি ‘রাঘব’, ‘আইসক্রিম’ ছবিটি ‘দ্য ফিলাডেলফিয়া স্টোরি’ এবং বলিউডের ‘হ্যালো ব্রাদার’- এর পোস্টারের সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে।