২৩, এপ্রিল, ২০১৮, সোমবার | | ৭ শা'বান ১৪৩৯

যশোর রোডের গাছ বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিয়াজের অনুরোধ

আপডেট: ১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:২৫ এএম

যশোর রোডের গাছ বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিয়াজের অনুরোধ
প্রসিদ্ধ যশোর রোড চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হচ্ছে।  এজন্য সড়কটির দুই পাশে থাকা নতুন-পুরনো সব গাছ কেটে ফেলা হবে।  গত ৬ জানুয়ারি সকালে যশোরে এক মতবিনিময় সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।  যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক যথাযথ মানের ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় রাস্তার দুই পার্শ্বে গাছসমূহ অপসারণের বিষয়ে’ এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। 




সেখানে জানানো হয়, গুরুত্বপূর্ণ যশোর-বেনাপোল মহাসড়কটি (যশোর রোড) চার লেনে উন্নীতকরণের
জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে।  শিগগির এ কাজ শুরু হবে।  কিন্তু বর্তমানে মহাসড়কটির দুই পাশে নতুন-পুরনো অনেক গাছ রয়েছে।  সেগুলো রেখে মহাসড়ক চার লেন করা সম্ভব না।  এ কারণে জনস্বার্থে গাছ কাটতে হবে। 







এদিকে এ গাছ কাটার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দেশের অনেক মানুষ।  এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্যদের মতো শিল্পীসমাজও অবস্থান নিয়েছে।  এরই মধ্যে সৈয়দ হাসান ইমাম, তৌকীর আহমেদ, লুবনা মারিয়াম, মেহের আফরোজ শাওন, কবীর সুমনের মতো ব্যক্তিত্বও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।  তাদের যুক্তি, যশোর রোড এবং এখানকার শতবর্ষী বৃক্ষ স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের সাক্ষী।  এ বৃক্ষ কেটে ফেললে পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ার পাশাপাশি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক দুর্লভ স্মৃতিও হারিয়ে যাবে চিরতরে।  দেশের অসংখ্য তারকা, শিল্পী নানাভাবে শতবর্ষী বৃক্ষ নিধনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন। 




এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ।  তিনি নিজের ফেসবুকে এ বিষয়ে লিখেছেন, ‘গাছ আমাদের পরম মমতায় দেয়।  শীতল ছায়া, ফল, ফুল ও নির্মল বাতাস দেয়। ’ যশোর রোডের গাছগুলোর প্রাণ বাঁচাতে রিয়াজ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘একজন মমতাময়ী মায়ের কাছে ২০০০+ গাছের জীবন ভিক্ষা চাই। ’




প্রসঙ্গত, যশোর শহরের দড়াটানা মোড় থেকে বেনাপোল পর্যন্ত সড়কটির দুপাশে দুই হাজারেরও বেশি গাছ আছে।  এর মধ্যে অনেক গাছ শতবর্ষীও।  রাস্তার দুই পাশে এ বৃক্ষরাজী ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে।  সীমান্তের ওপারে এ সড়কটি পরিচিত যশোর রোড নামে।  সীমান্তের ওপাড়েও রাস্তা চওড়া হয়েছে।  কিন্তু একটা গাছও কাটা হয়নি। 




বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও এ সড়কটির রয়েছে ঐতিহাসিক অবস্থান।  লাখ লাখ শরণার্থী এ সড়ক ধরে ভারতে গিয়েছিলেন।  মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ যুদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন।  ফিরে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন তার ঐতিহাসিক কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’।  মৌসুমী ভৌমিকও গেয়েছিলেন ‘যশোর রোড’ নামের একটি গান। 




অনেক স্মৃতিবিজড়িত এ রাস্তাটি ৪ লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ নেয়ার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে রাস্তার দুই পাশে থাকা ২ হাজার ৩১২টি গাছ কেটে ফেলা হবে।  উন্নয়নের দোহাই দিয়ে শতবর্ষী এ গাছগুলো কেটে ফেলা হবে একটি আত্মধ্বংসী উদ্যোগ, এমনটাই মনে করছেন শিল্পী ও সচেতন সমাজ।