১৯, এপ্রিল, ২০১৮, বৃহস্পতিবার | | ৩ শা'বান ১৪৩৯

সুন্দরী পাপিয়ার অপরাধ জগৎ

আপডেট: ০৩ জানুয়ারী ২০১৮, ০৭:৪২ পিএম

সুন্দরী পাপিয়ার অপরাধ জগৎ
পাপিয়া।   যে নামটি শুনলেই আঁতকে উঠেন মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার মানুষ।   তার অবস্থান জানতে পারলে পুলিশ ছুটে যায় গ্রেফতার অভিযানে।   বস্তির মেয়ে পাপিয়া আজ কোটি কোটি টাকার মালিক।   নামে-বেনামে রয়েছে অনেক সম্পদ।   তবে এসব করতে গিয়ে নামের আগে জুটেছে মাদকসম্রাজ্ঞী বিশেষণ।  

অন্ধকার জগতের পরিচিত মুখ পাপিয়া মাদক ব্যবসা করতে গিয়ে একাধিক মামলার আসামি হয়েছে।   কারাগারেও গেছে একাধিকবার।   তবে কখনোই তাকে বেশি দিন জেলখানায় থাকতে হয়নি।  
কারণ পর্দার আড়ালে রয়েছে তার আশীর্বাদদাতারা, যারা মাদক বিক্রির টাকার একটি বড় অংশ পেয়ে থাকেন।   অভিযোগ রয়েছে, সুন্দরী পাপিয়া কৌশলে প্রভাবশালীদের কাবু করে রাখছে।   এসব প্রভাবশালীই পাপিয়াকে জামিন পাইয়ে দিতে সহায়তা করেন।   জামিনপ্রাপ্ত পাপিয়া যেন আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।   নিজের গড়া মাদক সিন্ডিকেট আরো শক্তিশালী করে।   নতুন করে তার বাহিনীতে সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি নাম লিখিয়েছে অনেক তরুণী।   যাদের কাজ মাদক বিক্রি, হামলা ও তরুণীদের দিয়ে প্রতিপক্ষকে অথবা মাদক ব্যবসায় বাধা দিতে আসা সাধারণ মানুষকে মামলায় ফাঁসানো।  

পাপিয়ার মাদক সিন্ডিকেটের কাছে অসহায় মোহাম্মদপুর আর আদাবরের সাধারণ মানুষ।   বিশেষ করে মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, ইকবাল রোড, পুরনো থানা রোড, জহুরী মহল্লা, জয়েন্ট কোয়ার্টার, টিক্কাপাড়া, কৃষি মার্কেট, পাকা ক্যাম্প, পিসি কালচার ও শেখেরটেকের মানুষ এককথায় জিম্মি তার অস্ত্রধারী বাহিনীর কাছে।   পাপিয়ার সিন্ডিকেট ওইসব এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি করছে।   ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না।  

আনুমানিক ২৩-২৪ বছরের পাপিয়ার পুরো নাম ফারহানা আক্তার পাপিয়া।   বেড় ওঠা মোহাম্মদপুরের আজিজ মহল্লার জয়েন্ট কোয়ার্টারে।   হাইস্কুলে পড়তে গিয়ে জেনেভা ক্যাম্পের মাদক ব্যবসায়ী জয়নাল আবেদিন ওরফে পাচুর সঙ্গে প্রেম।   পরে বিয়ে।   বউ হয়ে আসে পাচুর জেনেভা ক্যাম্পের বাসায়।   নারীদের দিয়ে অবৈধ মাদক কারবারে অনেক সুবিধা।   তাই স্ত্রী পাপিয়াকে যুক্ত করে এ কারবারে।   অল্প দিনেই পাপিয়া পারদর্শী হয়ে ওঠে।   পুলিশকে ফাঁকি দিতে পাপিয়া যুক্ত করে আরো অনেক তরুণীকে।   এক সময় পাপিয়া নিজেই হাল ধরে।   গড়ে তোলে পাপিয়া সিন্ডিকেট।   হয়ে ওঠে মাদকস¤্রাজ্ঞী।   তার অবৈধ মাদক ব্যবসা বিস্তৃতি পায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।   এক সময় শুধু হেরোইন ও গাঁজা বিক্রি করত।   পরে শুরু করে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রি।   গ্রেফতার পরবর্তী পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া জানিয়েছে, চট্টগ্রামের হোসাইন নামে এক মাদক ব্যবসায়ী তার ভাসুর রাহীর কাছে ইয়াবা পৌঁছে দিতো।   পরে সেগুলো স্বামী পাচু ও নিজে রাজধানীতে ছড়িয়ে দিত।   এ ছাড়া নিজস্ব সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, আদাবর, শ্যামলী ও মিরপুর এলাকার বিক্রি করত।   বছর তিনেক আগে জেনেভা ক্যাম্পের বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেফতার হয় পাপিয়া ও তার ভাসুর রাহী।   কিন্তু কিছুদিন পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ক্যাম্প ছেড়ে বাসা নেয় শ্যামলী হাউজিং সোসাইটিতে।  

সর্বশেষ গত বছরের ৪ ডিসেম্বর আদাবরের শেখেরটেকের শ্যামলী হাউজিং সোসাইটির বাসা থেকে র্যাব তাকে গ্রেফতার করে।   এ সময় পিস্তল, বিপুল ইয়াবা ট্যাবলেট ও কিছু হেরোইন উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।   রিমান্ডে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে পাপিয়া স্বীকার করেছিল, সে মাদক বেচাকেনার সময় নিরাপত্তার জন্য পিস্তল সঙ্গে রাখত।   বর্তমানে মোহাম্মদপুর-আদাবর এলাকার বিভিন্ন স্পটে পাপিয়া বাহিনী মাদক বিক্রি করছে।   কেউ বাধা দিলেই পাপিয়ার লালিত সন্ত্রাসী সেখানে হামলা চালায়।   জেনেভা ক্যাম্প, পাঁচতলা ক্যাম্প ও কৃষি মার্কেট এলাকায় তার ক্যাডররা বিচরণ করে।   কেউ বাধা দিলেই ক্যাডাররা বিভিন্ন দিক থেকে হামলা চালায়।   সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, মাদককারবারীদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।   ইতোমধ্যে চিহ্নিত অনেকে গ্রেফতারসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।  

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ডেপুটি ডিরেক্টর মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেছেন, পাপিয়া ও তার স্বামী পাচু রাজধানীর তালিকাভুক্ত মাদকব্যবসায়ী।   তাদের বিরুদ্ধে বেশ ক’টি মামলা হয়েছে।   তারা একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছিল।