১৬, জুলাই, ২০১৮, সোমবার | | ৩ জ্বিলকদ ১৪৩৯

নোয়াখালী প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

উৎসবমুখর পরিবেশে রবিবার নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ২০১৮ উদযাপন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। ক্যাম্পাসকে সাজানো হয় রঙিন সাজে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসহ অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনে আলোকসজ্জা করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ ভবনসমূহে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বত্রই ছিল উৎসবের আমেজ। বৃক্ষরোপণ, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল দিনজুড়ে। সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ড. এ কে আজাদ চৌধুরী, প্রফেসর এমিরেটাস, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং নোবিপ্রবি উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামান। পরে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে বিশ্বাবদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী সকলে সম্মিলিতভাবে অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রা শেষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করা হয়। সকাল ১১টায় হাজী মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা। উপাচার্য ড. এম অহিদুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. এ.কে. আজাদ চৌধুরী, বিশেষ অতিথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ড. গুলশান আরা লতিফা, দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি পত্রিকার সম্পাদক এম জে কিবরিয়া উপস্থিত ছিলেন। সভার শুরুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড.মো. আবুল হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অদ্যাবধি অগ্রগতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে স্বাগত বক্তব্য রাখেন। সভা সঞ্চালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মো. মমিনুল হক। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ড. এ. কে. আজাদ চৌধুরী সরকারের শিক্ষা ক্ষেত্রসহ নানা সেক্টরের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বর্ণনা তুলে ধরে বলেন, রেকর্ড ৭.২ প্রবৃদ্ধি নিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে প্রবেশ করেছে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষাক্ষেত্রে উন্নয়নে এক হাজার কোটি টাকার নিচে বাজেট দিচ্ছেন না, যা উচ্চশিক্ষার উন্নয়নে মাইলফলক। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মতো এমন আনন্দঘন দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করে বক্তৃতা দেন আলোচনা সভার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এম অহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, একাডেমিক ও ভৌত অবকাঠামো উভয় দিক থেকে অত্যন্ত ভঙ্গুর অবস্থা থেকে যাত্রা শুরু করলেও আজ নোবিপ্রবি অনেক দূরে পৌঁছেছে। শুরুতে চারটি বিভাগ নিয়ে পথচলা শুরু করেছে যে বিশ্ববিদ্যালয়, সেখানে আজ ২৫টি বিভাগ। আগামীতে নোবিপ্রবি কেমন হবে তার বর্ণনা করে তিনি বলেন, সরকারের ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়ন ও ব্লু ইকোনমি প্রসারের লক্ষ্যে সমুদ্র বিজ্ঞান ও সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট স্থাপন এর প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। অ্যাকাডেমিক পড়াশোনাকে ত্বরান্বিত করতে নোবিপ্রবিতে ডেল্টা প্ল্যান গঠন, মহাকাশ বিষয়ে গবেষণা, এনভায়রনমেন্ট অনুযায়ী ইকোলজি পাঠদান ও ব্যবস্থাপনার কাজ করা হবে। এছাড়া রোবটিক্স ও মেকাট্রোনিক্স এমন যুগোপযোগী বিভাগের দ্বার উন্মোচন করা হলো এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কর্মপরিধি। ভবিষ্যতে ২ তলা স্পেইস রিসার্চ সেন্টার এবং ক্যাম্পাসে হেলিপ্যাড নির্মাণের পরিকল্পনাও করেছে কর্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীদের শ্রেণীকক্ষের অপ্রতুলতা নিরসনে আগামীতে দেশের সর্ববৃহৎ ২০ তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। আর পর্যাপ্ত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্মাণ করা হবে আলাদা ছাত্র ও ছাত্রী হল। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিকালে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।