২০, অক্টোবর, ২০১৮, শনিবার | | ৯ সফর ১৪৪০

ম্যারাডোনার সেই জাদুকরি পায়ের করুণ অবস্থা!

মেক্সিকান ক্লাব দোরাদোস দে সিনালার কোচের দায়িত্বে আছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। সেখানে এক অনুশীলন সেশনের ভিডিও দেখে ম্যারাডোনাভক্তদের চক্ষু চড়কগাছ। আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি তো হাঁটতেই পারছেন না! খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে ধীরে ধীরে হাঁটছেন। জাদুকরি সেই পা দুটোয় কী তাহলে কোনো সমস্যা? ম্যারাডোনার শল্যচিকিৎসক জার্মান ওচোয়া এ নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তার কথাই জানিয়েছেন। তার রোগীর দুই হাঁটুতেই তরুণাস্থি পুরোপুরি ক্ষয়প্রাপ্ত হয়েছে। অস্ত্রোপচার জরুরি। রোগটার নাম অস্ট্রিওআথ্রাইসিস। মানে হাঁটুর গেঁটে বাত। দ্রুতই অস্ত্রোপচার করাতে হবে। লাগাতে হবে নকল পা। ম্যারাডোনার শল্যচিকিৎসক জার্মান ওচোয়া নিজেই জানিয়েছেন এই কথা। সংবাদমাধ্যমকে ওচোয়া জানিয়েছেন, ২০০৪ সাল থেকেই ম্যারাডোনা এ রোগে ভুগছেন। কখনো সেভাবে পাত্তা দেননি। কিন্তু রোগটা এখন গুরুতর হয়ে ওঠায় যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রোপচার করাতে হবে। গত সপ্তাহে দোরাদোস দে সিনালার অনুশীলন মাঠ ছাড়ার সময় হাঁটতে ভীষণ অসুবিধা হচ্ছিল ম্যারাডোনার। বোঝাই যাচ্ছিল, ভীষণ ব্যথা পাচ্ছেন। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পরই মুখ খুললেন ওচোয়া, ম্যারাডোনা দুই হাঁটুতেই তীব্র গেঁটে বাতে ভুগছেন। দুই হাঁটুরই তরুণাস্থি ক্ষয়ে গেছে। হাঁটুর দুটি হাড়ে ঘষা লাগছে ফেমারের সঙ্গে টিবিয়া ও ফেবুলা। এটা গুরুতর সমস্যা। প্রচণ্ড ব্যথা ও প্রদাহ হয়। হাঁটা ভীষণ অসুবিধাজনক। ১৯৮৬ বিশ্বকাপজয়ী তারকার হাঁটুর এই রোগের চিকিৎসা প্রসঙ্গে ওচোয়ার ভাষ্য, ম্যারাডোনা নিজেও জানেন সমাধানটা হলো অস্ত্রোপচার। হাঁটুতে কৃত্রিম তরুণাস্থি বসাতে হবে। তা না হলে অবস্থা আরও খারাপের দিকে যাবে। এটি থামানো সম্ভব না। এ কারণে তার নকল পা প্রয়োজন। ৫৭ বছর বয়সী ম্যারাডোনা এই অস্ত্রোপচারের জন্য কম বয়সী বলেও মনে করেন কলম্বিয়ান এই চিকিৎসক। কিন্তু অস্ত্রোপচার ছাড়া বিকল্প কোনো রাস্তাও নেই। প্রশ্ন উঠেছে, অবস্থা গুরুতর হলে ম্যারাডোনা কি আর হাঁটতে পারবেন? ওচোয়ার জানালেন, এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই, সেরকম কোনো ঝুঁকি নেই। প্রযুক্তি এখন অনেক উন্নত। অস্ত্রোপচার করানোই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে ডিয়েগোকে এই মুহূর্তে হাঁটাচলার ব্যাপারে সাবধান হতে হবে। দৌড়াদৌড়ি করা চলবে না। ভক্তরা দুশ্চিন্তায় পড়লেও ম্যারাডোনা কত দ্রুত অস্ত্রোপচার করাবেন তা নিশ্চিত করতে পারেনি সংবাদমাধ্যম। প্রসঙ্গত, অনেক বিশেষজ্ঞ, ফুটবল সমালোচক, প্রাক্তন ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং ফুটবল সমর্থক ম্যারাডোনাকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে গন্য করেন। তিনি ফিফার বিংশ শতাব্দীর সেরা খেলোয়াড়ে পেলের সাথে যৌথভাবে ছিলেন। ম্যারাডোনাই একমাত্র খেলোয়াড় যিনি দুইবার স্থানান্তর ফি এর ক্ষেত্র বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। প্রথমবার বার্সেলোনায় স্থানান্তরের সময় ৫ মিলিয়ন ইউরো এবং দ্বিতীয়বার নাপোলিতে স্থানান্তরের সময় ৬.৯ মিলিয়ন ইউরো। নিজের পেশাদার ক্যারিয়ারে মারাদোনা আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্স, বোকা জুনিয়র্স, বার্সেলোনা, নাপোলি, সেভিয়া এবং নিওয়েলস ওল্ড বয়েজের হয়ে খেলেছেন। ক্লাব পর্যায়ে তিনি তার নাপোলিতে কাটানো সময়ের জন্য বিখ্যাত, যেখানে তিনি অসংখ্য সম্মাননা জিতেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আর্জেন্টিনার হয়ে তিনি ৯১ খেলায় ৩৪ গোল করেন। তিনি চারটি ফিফা বিশ্বকাপ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। যার মধ্যে ছিল ১৯৮৬ বিশ্বকাপ, যেখানে তিনি আর্জেন্টিনা দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন এবং দলকে বিশ্বকাপ জয়ে নেতৃত্ব দেন। প্রতিযোগিতার সেরা খেলোয়াড় হিসেবে স্বর্ণ গোলক জিতেন তিনি। প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা ২–১ গোলে জয় লাভ করে। আর্জেন্টিনার পক্ষে উভয় গোলই করেন মারাদোনা। দুইটি গোলই ফুটবল ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে দুইটি ভিন্ন কারণে। প্রথম গোলটি ছিল হ্যান্ডবল যা ‘হ্যান্ড অফ গড’ নামে খ্যাত। দ্বিতীয় গোলটি ম্যারাডোনা প্রায় ৬০ মিটার দূর থেকে ড্রিবলিং করে পাঁচজন ইংরেজ ডিফেন্ডারকে পাশ কাটিয়ে করেন। ২০০২ সালে ফিফাডটকম এর ভোটাররা গোলটিকে শতাব্দীর সেরা গোল হিসাবে নির্বাচিত করে। ম্যারাডোনাকে ক্রীড়া জগতের সবচেয়ে বিতর্কিত এবং সংবাদ হিসেবে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গের অন্যতম মনে করা হয়। ১৯৯১ সালে ইতালিতে ড্রাগ টেস্টে কোকেইনের জন্য ধরা পড়ায় ১৫ মাসের জন্য ফুটবল থেকে নিষিদ্ধ হন তিনি। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে ইফিড্রিন টেস্টে ইতিবাচক ফলাফলের জন্য তাকে প্রতিযোগিতা থেকে বাদ দেওয়া হয়। ২০০৫ সালে তিনি তার কোকেইন নেশা ত্যাগ করেন। তার কড়া রীতি মাঝেমাঝে সাংবাদিক এবং ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের সাথে তার মতভেদের সৃষ্টি করে। ম্যানেজার হিসেবে খুব কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও ২০০৮ সালের নভেম্বরে তাকে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ২০১০ বিশ্বকাপের পর চুক্তি শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি আঠারো মাস এই দায়িত্বে ছিলেন।