২৫, মে, ২০১৮, শুক্রবার | | ১০ রমজান ১৪৩৯

জবিতে মানববন্ধন, কৌশলে ছাত্রলীগের বাধা

কোটা সংস্কার আন্দোলনের সংগঠন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী এ পি এম সুহেলের উপর হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানবন্ধন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ।আজ দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নেয়। এ সময় ছাত্রলীগ জবি শাখা সভাপতি দীর্ঘ সময় বক্তব্য দিয়ে কৌশলে মানববন্ধন কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করা এবং তার বক্তব্যে বিভিন্নভাবে হুমকি ধমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা।দেখা যায়, মানববন্ধন শুরু হওয়ার কয়েক মিনিটের মাথায় সংগহতি প্রকাশ করতে আসেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি তরিকুল ইসলাম। এ সময় তিনি প্রায় ১ঘণ্টা ৩০ মিনিট টানা বক্তব্য দিতে থাকেন। মানববন্ধনকারীরা কয়েকবার থামাতে চাইলেও তিনি তার বক্তব্য চালিয়ে যান।ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতারা মানববন্ধনে অংশ নিলেও কথা বলার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। তারপর দুপুর ১.৩০টায় শিক্ষার্থীরা আস্তে আস্তে মূলফটকের দিকে যেতে থাকে। ২টার দিকে কেন্দ্রীয় নেতারা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মূলফটকের সামনে আবারো মানববন্ধন করেন।ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক আতাউল্লাহ বলেন, আমরা মানববন্ধনে অংশ নিয়েছি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনারের সামনে শুরু হওয়া মানববন্ধনে জবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি দেওয়া দীর্ঘ বক্তব্য কর্মসূচিকে বাধাগ্রস্ত করে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলফটকের সামনে আমরা মানববন্ধন করেছি।মানববন্ধন কর্মসূচিতে ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন আকাশ, মো. তারেক, নীলা, বাশার, আবু হানিফ উপস্থিত ছিলেন।মানববন্ধনের আহ্বায়ক আসমা বিনতে হাফিজ বলেন, আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে হামলার প্রতিবাদে এবং হামলাকারিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছি। আমাদেরও নানানভাবে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে। নিজেরাও নিরাপত্তাহীনতায় আছি।ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতলের পুরাতন ভবনের ১০১ নং ওয়ার্ডের ১০ নাম্বার বেডে চিকিত্সাধীন রয়েছেন সুয়েল। তার সাথে রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন বন্ধু আর কোটা আন্দোলনের সাথে জড়িত অনেকইে।হামলা এবং বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে এ পিএম সুয়েল বলেন, ডাক্তার কিডনি পরীক্ষাসহ ৪টি পরীক্ষা দিয়েছে। রিপোর্ট আসলে বলতে পারবো কি কি সমস্যা। তবে সমস্ত শরীরে ব্যাথা ভাই। আমি ভালো নেই। কোনো মানুষ মানুষকে এভাবে মারতে পারে না। কেন এমন করলো আমার সাথে? আমার কি অপরাধ? কোটার সংস্কার চেয়েছি এটা কি শুধু আমার দাবি? ওরা এখন আমার ছবি এ্যাডিট করে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছে। কিছু অনলাইন পোর্টালে ভূয়া নিউজ করাচ্ছে। বলছে আমি খারাপ অবস্থায় ধরা পড়েছি। অথচ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পুলিশের আছে।গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সুহেল ক্যাম্পাসের মূল ফটকের বাইরে বের হয়ে এলে ১০-১২ জন তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আহত অবস্থায় তাঁকে গেন্ডারিয়া আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে উন্নত চিকিত্সরার জন্য তাকে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁর ঠোঁটে পাঁচটি সেলাই করা হয়েছে। ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কয়েকজন নেতা এ ব্যাপারে বুধবার রাতে সূত্রাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের ১০ম ব্যাচের শিড়্গার্থী আলিম বাবুসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামি করা হয়।বিষয়টি নিয়ে কথা বললে সূত্রাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ এ কে এম সাইফুদ্দিন বলেন, আমরা বাবুকে ধরার চেষ্টা করছি। আশা করি খুব দ্রুত সময়ে অভিযুক্তকে ধরতে পারবো। আপনাদের কাছে তার কোনো তথ্য থাকলে দিতে পারেন।