১৭, জানুয়ারী, ২০১৮, বুধবার | | ২৯ রবিউস সানি ১৪৩৯

ঘাটাইলে গৃহবধুকে ধর্ষনের অভিযোগ

এম.এস.এস.সৌরভ ঘাটাইল(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধিঃ | বার্তাবাজার.কম

আপডেট: ১৪ জানুয়ারী ২০১৮, ০৬:৫৮ পিএম

ঘাটাইলে গৃহবধুকে ধর্ষনের অভিযোগ

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে  এক গৃহবধুকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে ৷ উপজেলার লোকেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের এক গৃহবধূকে(২২) ভিজিডি কার্ড দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. রাসেল (২৮) ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে ৷ গ্রাম্য সালিশে গৃহবধূকে ধর্ষণের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।

জানা যায়, লোকেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের হতদরিদ্র জনৈক গৃহবধূ দীর্ঘদিন যাবত একটি ভিজিডি কার্ড করে দেয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রাসেল মিয়ার

কাছে ধর্ণা দিচ্ছিল। গত ১০ জানুয়ারি গভীর রাতে ইউপি সদস্য মো. রাসেল মিয়া স্বামীর অনুপস্থিতির সুযোগে ওই গৃহবধূর ঘরে ঢুকে তাকে ধর্ষণ করে। এ সময় গৃহবধূর চিৎকারে তার শ্বশুর ও এলাকাবাসী দৌঁড়ে এসে ধর্ষক মো. রাসেল মিয়াকে হাতেনাতে আটক করে। পরে ইউপি সদস্যের স্বজনরা ন্যায় বিচারের আশ্বাস দিয়ে মো. রাসেলকে ছড়িয়ে নেয়। পরদিন ১১ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দশানী বকশিয়া গ্রামের মো. মাতাব আলীর বাড়িতে ঘরোয়া গ্রাম্য সালিশে ধর্ষণের দায়ে রাসেলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করে ঘটনা নিষ্পত্তি করা হয়। সালিশে মো. নুরুজ্জামান ওরফে মাতাব আলী মাষ্টার সভাপতিত্ব করেন। সালিশে অন্যদের মধ্যে স্থানীয় মাতব্বর আলমগীর তালুকদার, মনিরুজ্জামান তালুকদার মনি, আ. মান্নান তালুকদার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ষিতার শ্বশুর জানান, গোপণে অনুষ্ঠিত ঘরোয়া বৈঠকে ধর্ষিতার ২০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য করা হলেও ওই টাকা ধর্ষিতার হাতে পৌঁছেনি। তাছাড়া গ্রাম্য সালিশে পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে।

সালিশের মাতব্বর আ. মান্নান তালুকদার বলেন, এ ঘটনায় আমরা মামলা করতে আগ্রহী ছিলাম। গ্রামের মাতব্বরদের অনুরোধে সালিশে বসেছিলাম, কিন্তু আমরা ন্যায় বিচার পাইনি।

সালিশের মাতব্বর স্বপন তালুকদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন।


সালিশের সভাপতি মো. নুরুজ্জামান ওরফে মাতাব আলী মাষ্টার জানান, দুই পক্ষই তার স্বজন। তাই ঘটনাটি সমাধানের চেষ্টা করেছেন।

ইউপি সদস্য মো. রাসেলকে মুঠোফোনে না পাওয়ায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

লোকেরপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা মো. শরিফ হোসেন জানান, বিষয়টি ইউপি সদস্য মো. রাসেল বা অন্য কেউ তাকে জানায়নি। ইউপি সদস্য হলেও ধর্ষণের মতো ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত থাকলে তাকে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে।