কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় জিংলাতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন ও দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পারুল আক্তার দম্পতিকে প্রায় দুই সপ্তাহ যাবৎ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। এর আগে ১২ দিনের ছুটি নিয়ে ৩০এপ্রিল সকালে আলমগীর চেয়ারম্যান থাইল্যান্ডের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ত্যাগ করে। সেদিন রাতেই গৌরীপুর পশ্চিম বাজারে তিতাস উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক জামাল হোসেন হত্যাকান্ডের শিকার হয়। সে সময় ১২ দিনের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে জহিরুল ইসলাম রনি মেম্বার দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৪ই মে ঘূর্ণিঝড় মোখা চলাকালীন সময়ে আলমগীর চেয়ারম্যানের কক্সবাজারে ভ্রমণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা যায়।

এর কিছুদিন পর চেয়ারম্যান দম্পতিকে যুবলীগ নেতা জামাল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেফতারের গুঞ্জন ওঠে। এরপর থেকে লোকচক্ষু বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কোথাও তাদের উপস্থিতি দেখা যায়নি। এদিকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সব দপ্তর থেকেই তাদেরকে গ্রেফতারের বিষয়টি অস্বীকার করে।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কতৃক গ্রেফতার না হওয়া,অন্য দিকে লোকচক্ষে না দেখা যাওয়া ও তাদের ব্যক্তিগত মোবাইল নাম্বার বন্ধ থাকায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্ন জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি প্রথম আলোতে ছাপানো একটি প্রতিবেদনে দেখা যায়,জামাল হত্যায় সরাসরি অংশ নেয়া শুটার দেলোয়ার হোসেন দেলুর ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি অনুযায়ী আলমগীর চেয়ারম্যান ও তাহার স্ত্রী পারুল আক্তার জামাল হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী।

উপজেলা পরিষদের তথ্য বলছে ১২দিনের ভ্রমণ শেষে আলমগীর চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে যোগদান করেছে, ফলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে বর্তমানে কেউ নেই। ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আবুল কালাম আজাদ জানান বেশ কিছু দিন যাবত চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা যাচ্ছেনা। চেয়ারম্যান কোথায় আছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য তাহার কাছে নাই।

সম্প্রতি চেয়ারম্যান নিয়মিত পরিষদে না আসায় বেহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। চেয়ারম্যান দম্পতির সাথে সবসময় উঠাবসা করা ব্যক্তিদের কাছেও তাদের ব্যাপারে কোনো খোঁজ খবর পাওয়া যাচ্ছেনা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে দাউদকান্দি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহিনুল হাসান বলেন, খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি দেখছি তাছাড়া ওখানে প্যানেল চেয়ারম্যানকে এখনই নির্দেশনা দেবো ঠিকমতো কাজ সম্পন্ন করার জন্য যাতে জনসেবা বিঘ্নিত না হয়।

বার্তা বাজার/জে আই