পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে দেউলী পল্লী মঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস সালাম হাওলাদারের বিরুদ্ধে গোপনে নানা কমিটি গঠনসহ অনিয়ম-দুর্নীতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ, দাতা, প্রতিষ্ঠাতা ও স্থানীয়রা প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেছেন।
এদিকে ২২ জুন প্রধান শিক্ষক কর্তৃক গোপনে ও অনিয়মতান্ত্রিকভাবে বোর্ডে প্রেরিত কমিটি অনুমোদন বাতিলকরণসহ তার বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয় যে, ২০২১ সালে দশম শ্রেণীর একজন ছাত্রীর শ্লীলতাহানী করেন, এর আগে ২০১১ সালে তার প্রথম কর্মস্থল একই উপজেলার বাজিতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সেখানে একাধিক ছাত্রীর ও অভিভাবকের সাথে অবৈধ সম্পর্ক করে প্রেগনেট করার দায়ে কমিটি তাকে চাকুরীচ্যুত করেন এবং জুতার মালা পরিয়ে বিদায় করেন। ২০২৩ সালে সে অবৈধভাবে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তৎকালীন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে প্রশ্নপত্র আউট করে নিয়োগ বোর্ড না বসিয়ে বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ দেন। তিনি স্কুল কমিটিকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে হন প্রধান শিক্ষক।

প্রধান শিক্ষক হওয়ার পর এলাকাবাসী আর কখনও নতুন কমিটির মুখ দেখেনি। গোপনে পকেট কমিটি করে বোর্ড হতে অনুমোদন করে নিয়ে আসেন। স্কুলের বিভিন্ন ফান্ডের অর্থ আত্মসাত, মহিলা শিক্ষিকাকে কুপ্রস্তাব দেয়া, ছাত্রীদের গায়ে হাত দেয়া, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে দুর্ব্যবহার করা তার অভ্যাসে পরিনত হয়েছে। এমনকি ২০২২ সালে সে অত্র স্কুলের অত্যন্ত প্রবীণ সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান ও গণিত) আসাদুজ্জামানকে প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের সামনে মারধর করেন। তখনও এলাকাবাসী তার বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল, প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেন।
এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম হাওলাদারকে মোবাইলে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।