লালমনিরহাটে চলতি বছরের প্রথম দফার বন্যায় তিস্তা ও ধরলার তীরবর্তী অংশের কয়েক’শ বাড়ী ঘড় নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে। বাড়ীঘর হারিয়ে দিশেহারা এসব পরিবার।

আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের গরীবুল্লাহ পাড়া গ্রামের ১ কিলোমিটারের বেশী অংশ জুড়ে তিস্তার ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। হুমকিতে রয়েছে বাড়ীঘর ও মসজিদ। ভাঙনের মুখে পড়েছে বাহাদুরপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপাড়া মসজিদ, ব্রীজ কালভার্ট। ওই গ্রামের কলেজ ছাত্রী জাকিয়া ফারহানা জানান, তিস্তায় স্থায়ী বাঁধ নির্মান করে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দিলে চরাঞ্চলের মানুষ দেশের অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে। এ জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ করেন।লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের বাগডোরা মধ্যপাড়া গ্রামের বৃদ্ধ সোবাহান মিয়া

কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন একবার দুইবার নোমায় এই নিয়া চৌদ্দবার বাড়ি সড়বার নাগচি। গত আইতে একটা ঘর নদীতে ভাসি গেইচে। এলা হামরা কোনটে যাই, এই নদী হামাক ফকির বানাইছে। বেঁচে থাকার জন্য সোবহান মিয়া তের বার নতুন করে বসত ভিটা বাঁধলেও কোনটাই স্থায়ী হয়নি। তার যৌবনের সকল শ্রম তিস্তা নদী গিলে ফেলেছে। বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধে আশ্রয় নেয়া গৃহবধু মৈরন বেগম(২৮) জানান, ঈদের দিন তাড়াহুড়া করে ঘর দুইটি সড়ায়ে রাস্তায় নিয়েছি, একটি ঘর জায়গার অভাবে পাশে ডোবায় ফেলে রাখছি। একটি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছি। সরকারী ভাবে এখনো কোন সহায়তা পায়নি। নদী ভাঙ্গনের কারনে গত এক মাসে বাগডোরা মধ্যপাড়া গ্রামে প্রায় অর্ধশত রাস্তায় মানবেতর জিবন যাপন করছেন। জায়গার অভাবে ও কাজের সন্ধানে অনেকে পরিবার পরিজনসহ পাড়ি জমিয়েছেন রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায়।

অপর দিকে সদর উপজেলার মোগলহাট,কুলাঘাট ও বড়বাড়ীর ইউনিয়নের ধরলা নদী সংলগ্ন অংশে ও ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে মোগলহাট ইউনিয়নের বেশী অংশ ধরলা নদীতে হারিয়ে গেছে। বিশেষ করে, ফলিমারী, কুরুল, বুমকা, ইটাপোতা, খারুয়া গ্রামের অংশ বিশেষ নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। মাথা গোজার ঠাই হিসেবে অনেক মানুষ ওয়াবদা বাঁধ ও রেলওয়ে লাইনের ধারে অস্থায়ী বাড়ী তৈরি করে জীবন যাপন করেছে। ধরলা নদী পারের মানুষগুলো জানান, নদীর কিনারা ঘরের উঠানেই চলে এসেছে যে কোনো মুহুর্তে বিলীন হয়ে যেতে পারে ঘড়বাড়ী। আতঙ্ক, উদ্বেগে আর নির্ঘুম সময় কাটাছে তাদের। ভাঙন ঠেকাতে সরকারের কাছে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা চান তারা।

এদিকে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি উন্নয়ণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী এ কেএম তাহমিদুল ইসলাম।এসময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত তিস্তাপাড়ের লোকজনের সাথে কথা বলে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় সকল ধরনের সহায়তা করার কথা জানানো হয়েছে।