সম্প্রতি জেল হাজত থেকে বের হয়ে জনসম্মুখে এক বক্তব্যে পটুয়াখলীর বাউফলের জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেটকে অর্থলোভী ও ষড়যন্ত্রকারী বলে আখ্যা দিলেন বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ শাহিন হাওলাদার। ১৯ দিনের কারাবাস শেষে জামিনে বের হয়ে এক পথসভায় তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আশিকুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন— যে সরযন্ত্র নিয়ে আমাকে গ্রেফতার করা হয়েছিলো এবং তাদের যে উদ্দেশ্য ছিলো তাতে তারা সফল হতে পারে নাই। আমার নেতা জনাব আ স ম ফিরোজ এমপি সাহেবের হস্তক্ষেপের কারণে তারা সফল হইতে পারে নাই। যে ম্যাজিস্ট্রেট এর কোর্টে আমার মামলা ছিলো জনাব আশিকুর রহমান সাহেব উনি একজন সরযন্ত্রকারী অর্থলোভী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি আরও বলেন কোন সরযন্ত্রকারী আ স ম ফিরোজ এমপির কোন সৈনিককের কোন কাজকে ব্যহত করতে পারবে না। আমি শাহিন হাওলাদার আমি কোন ভয়ে ভিত নই। পথসভায় তিনি কতিপয় ব্যক্তীদের উদ্দেশ্য করে আরো বলেন, সাবধান হয়ে যান নাইলে ভব্যিষৎ খারাপ, আমি শাহিন চেয়ারম্যান এখনো আরো ২ বছর চেয়ারম্যান আছি।

তবে এবিষয়টি অস্বীকার করে শাহিন হওলাদার বলেন—আমি এমন কোন বক্তব্য দেইনি এটা কিভাবে কি করে এডিট করা হয়েছে তা আমার জানা নেই।

বিশেষ সুত্র বলছে, বাউফল উপজেলা নির্বাচনে মোঃ মোশারফ হোসেন খান এর নির্বাচনি প্রচারনায় অংশ নেয় মোঃ শাহিন হাওলাদার। অপরদিকে মোঃ মতলেব হাওলাদার এর হয়ে নির্বাচনি প্রচারনায় অংশ নেয় স্কুল শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম। তাদের এই পক্ষপাতিত্ব করা নিয়ে অভ্যন্তরিন কোন্দল শুরু হয়। গত ২০ মে নির্বাচনী প্রচারনা শেষে শিক্ষক শহিদুল বাড়ির পথে রওনা হলে আয়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পূর্ব পাশে তার বাড়ির সামনে অভিযুক্ত শাহিন শহিদুলের গতিরোধ করে। পরে এক পর্যায়ে ধারালো দেশীয় অস্র দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্য কোপ দিলে শহিদুল তার বাম হাত দিয়ে তা রোধ করার চেষ্টা করে। তখন তার বাম হাতের কব্জি কেটে ঝুলে যায়। এসময় শাহিন হাওলাদারে সাথে নাম না জানা আরও ২/১ জন ছিলো বলে জানা যায়।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী শহিদুলের ভাই মোঃ এরশাদ হোসেন বাদী হয়ে বাউফল থানায় মামলা করে। পরে বাউফল থানা পুলিশ গত ২১ মে বিকাল সাড়ে ৪ টায় শহিন হাওলাদারের নিজ বাসা থেকে আটক করে। পরে শাহিন গত ০৯ জুন জামিনে ছাড়া পায়।

এদিকে জামিনে ছাড়া পেয়ে স্কুল শিক্ষকের বসতবাড়ি জোড়পূর্বক দখেলের অভিযোগ উঠেছে ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহিন হাওলাদার (৫৭) এর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগি শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলামের দাবি দীর্ঘদিন জেল হাজত খেটে শাহিন জামিনে বেড়িয়ে আসে। জেল থেকে বের হওয়ার পর থেকেই আমার বসতবাড়ি জোড়পূর্বক দখলের চেষ্টা করছে এবং আমাকে ও আমার পরিবারকে খুনের হুমকি দিচ্ছে। আমি আমার বসতবাড়ীতে থাকতে পারতেছি না। পরে ভুক্তভোগী শহিদুল ইসলামের ভাই মোঃ এরসাদ হোসেন গত ১৩ জুন বাউফল থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন। শহিদুল ইসলাম বিরপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাউফল উপজেলার আয়লা গ্রামের বাসিন্দা।

শহিদুল ইসলামের বাড়ি দখলের বিষয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ শাহিন হাওলাদার বলেন— ওড়া আমার জমি জোড়পূর্বক ভোগ দখল করছে আমি কেন জমি দখল করতে যাবো। তিনি উল্টে প্রতিবেদককে প্রশ্ন করেন ওদের কাগজ আছে কিনা আপনারা চেক করে দেখেন।

এবিষয় বাউফল থানার অফিস ইনচার্জ শোনিত কুমার গাইন বলেন, মামলা তদন্তাধীন আছে, কোর্ট বাদী বিবাদী কে ডাকবে এবং কোর্ট যে সিধান্ত দিবে সেটাই হবে।