ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে দুইজনকে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আহত দুজনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বুধবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের বারইপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, ওই এলাকার বাদশা সর্দারের ছেলে রিপন সর্দার (৩০) ও মৃত. আইনুদ্দীন শেখের ছেলে আজিজার শেখ (৪২)। বর্তমানে আহত আজিজার শেখ রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রিপন সর্দার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুধবার রাতে পার্শ্ববর্তী মহিষারঘোপ বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন বারইপাড়া গ্রামের রিপন সর্দার, আজিজার শেখ ও নাছির শেখ নামে তিন ব্যক্তি। পথিমধ্যে বারইপাড়া আজিজারের মোড়ে আসলে গ্রাম্য দলাদলি নিয়ে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ওই এলাকার ইকরাম মিয়ার নেতৃত্বে একটি ইজিবাইক ও একটি মোটরসাইকেলে আরো ১২-১৩ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে তাদের পথরোধ করে। এসময় তারা রিপন সর্দার ও আজিজার শেখকে জাপটে ধরে অতর্কিত হামলা চালায়। তবে তাদের সঙ্গে থাকা নাছির শেখ দৌঁড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। পরে হামলাকারীরা রিপন সর্দার ও আজিজার শেখের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে রিপন সর্দার ও আজিজার শেখ অজ্ঞান হয়ে গেলে হামলাকারীরা মৃত ভেবে তাদের ফেলে যায়। এরপর স্বজনরা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে রাতেই কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় প্রেরণ করেন।

এদিকে গুরুতর আহত রিপন সর্দারকে তার স্বজনরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে পথিমধ্যে মহিষারঘোপ বাজারে যায়। সেখানে ইকরাম মিয়ার পক্ষের মহিষারঘোপ এলাকার শাহ্ আলম শেখের নেতৃত্বে আরও ৬-৭ জন লোক রিপন সর্দারের স্বজনদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় রিপন সর্দারের দুই বোন ফাতেমা (৩২) ও কুলসুম (৩৭), ভগ্নিপতি হৃদয় মাতুব্বর (৩৫) ও ছানোয়ার শেখ (৪০) আহত হয়। বর্তমানে আহত ফাতেমা ও হৃদয় মাতুব্বর ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং কুলসুম ও ছানোয়ার শেখ আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা গা ঢাকা দেওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মামলার প্রস্তুতি চলছিল।

জানতে চাইলে আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ সেলিম রেজা জানান, ‘বর্তমান পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।’