বগুড়ায় ঈদের রাতে দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা এবং আরেক যুবককে গুলিবিদ্ধ করে আহত করার ঘটনায় এখনও মামলা দায়ের হয়নি। এ ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের দাবি, এ ঘটনায় বগুড়া শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বগুড়া জেলা পরিষদ সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদ টিপু জড়িত।

সোমবার ঈদের রাত দেড়টার দিকে শহরের নিশিন্দারা চকরপাড়া এলাকায় দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়৷ তারা হলেন ওই এলাকার মোহাম্মদ শরীফ এবং শরীফের মামাত ভাই মোহাম্মদ রোমান৷ শরীফ পেশায় এলপি গ্যাসের ব্যবসায়ী এবং রোমান শহরের সাতমাথায় ফুটপাতে ভ্যানে করে কাপড় বেচতেন।

শরীফের মামাত ভাই আবদুর রহিম বলেন, ঈদের বিকালে নিশিন্দারা এলাকায় সরু সড়কের পাশে সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদ টিপুর গাড়ি দাঁড় করানো ছিল। এমন সময় রোমান মোটরসাইকেল নিয়ে চকরপাড়া ফিরছিলেন। রাস্তা পার হতে অসুবিধে হওয়ায় টিপুর গাড়িচালকের সাথে রোমানের বাগবিতণ্ডা হয়। এর জেরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোটরশ্রমিকনেতা সৈয়দ কবির আহম্মেদ, তার ভাই সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদ, সার্জিলের ভায়রা ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শাহ মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন চকরপাড়া এলাকায় আসেন। রোমানকে তারা খুঁজতে থাকেন। পরে রোমান শরীফকে ডেকে নেন। বাগ্‌বিতণ্ডার একপর্যায়ে রোমানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। প্রতিবাদ করলে শরীফকেও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এরপর তারা গুলি ছুড়ে ঘটনাস্থল ছাড়েন। গুলিতে হোসেন নামে শরীফের এক বন্ধু আহত হন।

এ অভিযোগের বিষয়ে জানতে সৈয়দ সার্জিল আহম্মেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

তবে সার্জিলের বড় ভাই ও জেলা মোটরশ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কবির আহম্মেদ বলেন, আমার ভাতিজি টিপুর মেয়েকে এক বখাটে যুবক মাতলামি করে বাজে কথা বলেছিল। এ কারণে রাতে আমরা সেখানে যাই৷ সেখানে অবস্থানকালে খবর আসে, চকরপাড়া এলাকায় দুই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এলাকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে সার্জিল ও শাহ মেহেদী হাসান হয়তো সেখানে গেছেন। কিন্তু আমাদের ওখানে যাওয়ার সাথে এ হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দুটি আলাদা ঘটনা। আমার ভাই সৈয়দ সার্জিলকে এ ঘটনায় ফাঁসানোর ষড়যন্ত্র চলছে।

মামলার বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইয়ান ওলিউল্লাহ বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ দুটির ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এখনও এ ঘটনায় মামলা দায়ের হয়নি। আর যে যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনি এখন আশংকামুক্ত।

ওসি আরও বলেন, আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এ ঘটনা তদন্ত করছি। যারাই জড়িত থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।