লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ৯ বছরের শিশুকে যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধি মা ও দিনমজুর বাবাকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহত শিশু (৩য় শ্রেণীর ছাত্রী) ও রক্তাক্ত মাকে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এঘটনায় সোমবার (ঈদের রাত ১০টায় ) থানায় অভিযোগ দেয় শিশুর পরিবার। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে জনিসহ কাউকে এখন পর্যন্ত আটক করতে পারেনি।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার রাত ৮টায় রায়পুর উপজেলার চরআবাবিল ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের উদমারা গ্রামের হাওলাদার বাড়ীতে।

অভিযুক্ত- চরআবাবিল ইউপির উদমারা গ্রামের মৃত বাবুল ও পারুল বেগমের বখাটে ছেলে জনি (১৯) এবং তার মামা হামলাকারি মনির হোসেন, মামি আলেয়া, ও নানী রহিমা ।

ক্ষতিগ্রস্থ্য শিশুর দাদা নুরনবি জানান, গত সাতদিন আগে দুপুরে ৯ বছর বয়সী কন্যা বাড়ীতে খেলছিলো। এসময় কৌশলে কাঁঠাল খাওয়ার নামে পানের বরজে নিয়ে যৌন নির্যাতন করেন একই গ্রামের মৃত বাবুল মিয়ার ছেলে বখাটে মাদকসেবনকারী জনি। এসময় শিশুটি চিৎকার করলে স্থানীয় এক লোক এগিয়ে গিয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে এসে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করায়। এঘটনায় দিনমজুর পরিবার হওয়ায় গোপনে বিচার চেয়েছিলো মেম্বার ও চেয়ারম্যানের কাছে। কিন্তু তারা জনির বিচার করেননি।। ঘটনার পর থেকে জনি পলাতক থাকে এবং রোববার সকালে বাড়ী ফিরে আসে।

এঘটনার ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে রোববার বিকালে জনিকে তার বাড়ীতে জিজ্ঞাসা করতে যায় শিশুর গৃহীনি মা ও দিনমজুর বাবা। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি নিয়ে জনির মামা, মামি ও নানী ওই শিশুর মা-বাবার ওপর হামলা চালায়। তাদের লাঠির আঘাতে শিশুর মা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধি মরিয়ম বেগমের মাথা ফেটে যায়। আহত হন শিশুর বাবাও। ওই শিশুসহ তিনজনই এখন উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

অভিযুক্ত জনি ও তার মামা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য নেয়া যায়নি। তবে-জনির মামি আলেয়া বেগম বলেন, ছোট শিশুকে আদর করেছে। নির্যাতন করেনি। জনি ভূল করেছে।

চরআবাবিল ইউপি সদস্য মোঃ ফরিদ উদ্দিন হাওলাদার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বখাটে জনি তার নানার বাড়ীতে বসবাস করে। পরিবার খারাপ লোক। শিশুর বাবা ও দাদাকে পুলিশের সহযোগিতা নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার বাহারুল আলম জানান, হাসপাতালের একজন গাইনী ডাক্তার দিয়ে শিশুটির চেকআপ করানো হয়েছে। তাতে যৌন নির্যাতনের আলামত মিলেছে। শিশুটি ও তার মায়ের চিকিৎসা চলছে।

রায়পুর থানার ওসি ইয়ছিন ফারুক মজুমদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ওই শিশুর দাদা নুরনবি বাদী হয়ে থানায় মারধর ও যৌন ও শিশু নির্যাতনের মৌখিক অভিযোগ করেছেন। এঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামীদের গ্রেফতার চেষ্টা করছে।