কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রায় চার ঘন্টা ধরে দুই গ্রামের সংঘর্ষে পুলিশ সহ শতাধিক আহত হয়েছেন।এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বুধবার (১২ জুন) বিকালে তাল গাছের তালপাতা কাটা নিয়ে কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের করগাঁও ও ভাট্টা এলাকার দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।এক পর্যায়ে উভয়পক্ষ ক্ষিপ্ত হয়ে টেঁটা, হলঙ্গা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।এক পর্যায়ে এই সংঘর্ষ রুপ নেয় রনক্ষেত্রে।

খবর পেয়ে কটিয়াদী মডেল থানার একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন।এসময় পুলিশ ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে।

পুলিশ সুত্রে জানা যায়, বুধবার বিকালে করগাঁও ইউনিয়নের ভাট্টা এলাকার রোমান (২৫) নামের একজন পার্শ্ববর্তী করগাঁও এলাকার সোহা বাবুর বাড়ির তালগাছ থেকে তালপাতা আনতে গেলে সেই এলাকার সাহাব উদ্দিনের ছেলে ইসমাইলের সাথে কথা কাটাকাটির জেরে একপর্যায়ে রোমানকে মারধর শুরু করে ইসমাইল।পরে ঘটনার জের ধরে করগাঁও এলাকার একটি মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয় যে ‘ভাট্টা এলাকার লোকজন দলবদ্ধ হয়ে করগাঁও এলাকায় প্রবেশ করেছে, লোকজন মালামাল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে’।

এসময় দুই গ্রামের লোকজন একে অপরের উপর ইট পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে।পরে পুলিশ বাঁধা দিলে দুই গ্রামের লোকজনই পুলিশের উপর চড়াও হন।এসময় পুলিশের ৮ জন সদস্য আহত হয়।

এ ঘটনায় কটিয়াদী মডেল থানা বাদী হয়ে ২৩ জনকে আসামী করে ও ৪০-৪৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেন এবং ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ২৩ জনকে আটক করে।

এই সংঘর্ষের ঘটনায় আটককৃতরা হলেন,কটিয়াদী উপজেলার করগাঁও ইউনিয়নের
রিজন (২৪),হাইদুল ইসলাম (৫০),রবিন হোসেন (২৫), তৌফিক মিয়া (৪০),কামাল মিয়া (৪০),মোনায়েম ভুঁইয়া (৬০), আবুল হোসেন (৪০), রিকন ভুঁইয়া (৪০), আমিনুল ইসলাম (৩৫), সুফিয়া (৪৫), শাহজাহান (৬০),দিলু মিয়া (৪৫), রহমান (৪৮), মোস্তফা (১৯), শফিকুল ইসলাম (৩০), কামরুল হাসান (২০), পল্টু মিয়া (৪৩), মোঃ সোহেল (৪০), মজিবর রহমান (২২) ও ফেরদৌস মিয়া (২৬)।

এ ব্যাপারে কটিয়াদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ দাউদ জানান, করগাঁও এবং ভাট্টা দুই এলাকার সংঘর্ষের খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশের একটি টিম।পরিস্থিতি উত্তপ্ত অবস্থায় থাকলে ৩০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি নিক্ষেপ করে পুলিশ। এসময় পুলিশের ৮ জন সদস্য আহত হয়।এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে কটিয়াদী মডেল থানায় ২৩ জনকে আসামী এবং আরোও ৪০-৪৫ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে।২৩ জনকে আটক করা হয়েছে পাশাপাশি পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।