শরীয়তপুরের ডামুড্যায় প্রেমিকের (ডিভোর্সপ্রাপ্ত দ্বিতীয় স্বামী) ছুরিকাঘাতে ফাতেমা আক্তার মুন্নী নামে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী আহত হয়েছেন।গতকাল বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার খাইরুননেসা নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসার সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা মুন্নিকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের তীলই এলাকার বিল্লাল হোসেন মৃধার সঙ্গে বিয়ে হয় ফাতেমা আক্তার মুন্নীর এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে। তা ছাড়া মুন্নী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলেও জানান। এরমধ্যে গোপালগঞ্জ জেলার মোকসেদপুর থানার পদ্মবিলা এলাকার শরিফুল শেখ ইমরানের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে আহত মুন্নীর। ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট ইমরান ও মুন্নী পালিয়ে বিয়ে করেন। এরআগে মুন্নীকে না জানিয়ে প্রেমিক ইমরান আরো একটি বিয়ে করেন। এ নিয়ে নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে পারিবারিক কলহ চলে আসসিলো। এসময় চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি তাদের ডিভোর্স হয়। ডির্ভোসের পরও তারা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রাখে। বুধবার প্রেমিক ইমরান মুন্নীকে ফোনে করে স্থানীয় বুড়িরহাট বাজারে এনে রিকশায় করে কুতুবপুর এলাকায় নিয়ে যান। কুতুবপুর খাইরুননেসা নূরানী হাফিজিয়া মাদরাসার সামনে মুন্নীকে রিকশা থেকে নামিয়ে হঠাৎ করে ছুরি দিয়ে তলপেট সহ শরীরের বিভিন্ন অংশে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে আহত করে পালিয়ে যায় ইমরান।

প্রত্যক্ষদর্শী হুমায়ুন কবির বলেন, ‘চিৎকারের শব্দ পেয়ে আমি যাই। যেয়ে দেখি হাত ও পেট দিয়ে রক্ত পড়ছে। আশপাশের সবাই দেখছে কেউ তাঁকে সাহায্য করছে না। পরে আমি একটি অটোরিকশায় করে ওই নারীকে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসি।’

শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. অমিত সেনগুপ্ত বলেন, স্থানীয়রা এক নারীকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাঁর বাম হাত, বাম কান ও তলপেটে বড় ক্ষত চিহ্ন দেখা যায়। তবে তলপেট ফুটো হয়ে খাদ্যনালী বাহিরে চলে এসেছে। রোগীর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এ জন্য তাঁর অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। তাই তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমারত হোসেন বলেন, ‘ ইতোমধ্যে বিষয়টি আমি জেনেছি। চিকিৎসার জন্য ওই নারীকে ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’