শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও মারধরের ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করতে পারেনি স্থানীয় থানা পুলিশ।

গত ২১ মে জাজিরা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন সকাল ১১ টার দিকে জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের ফরাজী দারুস সুন্নাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোটারদের প্রকাশ্যে ভোট দিতে বাধ্য করা হচ্ছে এমন অভিযোগ পেয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ করে ভিডিও ধারণ করেন বার্তা বাজার পত্রিকার প্রতিনিধি আশিকুর রহমান হৃদয়সহ কয়েকজন সাংবাদিক। এসময় মোটরসাইকেল প্রতীকের ব্যাচ পরিহিত এক ব্যক্তি তাদের প্রথমে বাঁধা দেয় এবং তাদের মারধর করে মুঠোফোন ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

এমন তথ্য পেয়ে জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. পলাশ খান সহ প্রেসক্লাবের ১০ জন সদস্য সেখানে তথ্য সংগ্রহে যায়। এসময় মোটরসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ ইদ্রিস ফরাজীর সমর্থকরা তাদের উপর চড়াও হয়।

একপর্যায়ে সাথে থাকা অন্য সাংবাদিকরা তাদের ছাড়াতে গেলে অন্তত ৩০-৪০ জন মোটরসাইকেল প্রতীকের সমর্থক তাদের উপর লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালায়। এতে অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়। এরমধ্যে প্রেসক্লাবের সভাপতি পলাশ খানসহ ৫ সাংবাদিক গুরুতর আহত হয়।

এসময় হামলার শিকার সাংবাদিকদের সাথে থাকা মোবাইল, ক্যামেরাসহ তথ্য সংগ্রহে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ছিনিয়েে নিয়ে যায় ও ভেঙ্গে ফেলে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন হাসপাতালে নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় গত ২২ মে জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি পলাশ খান বাদী হয়ে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ১০/১৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামী করে জাজিরা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেখানে আসামী করা হয়েছে চেয়ারম্যান প্রার্থী ইদ্রিস ফরাজীর বোন জামাই ওহাব ফকির ও তার সমর্থক বিপ্লব আকনসহ হামলাকারী অন্যান্য সমর্থকদের।

মামলার আসামিরা হলেন ওহাব ফকির (৪০), বিপ্লব আকন (৩৫), হামজা হাওলাদার (৫৫), বাচ্চু ফকির (৩৭), আবু তালেব (২৬), ফরিদ হোসেন মিলন (২৮), আমজাদ হাওলাদার (৩৫), রহমান হাওলাদার (৫০), বাচ্চু হাওলাদার (৪২), শাকিল হাওলাদার (৩০), মনির হাওলাদার (৪২), তানভির সোহাগ (২৭), রহমান হোসেন হাওলাদার (৪০), সবুজ হাওলাদার (৩৫)। আসামিরা উপজেলার সেনেরচর আফাজ উদ্দিন মুন্সী কান্দি এলাকার বাসিন্দা।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাওন মিয়া বলেন, “সাংবাদিকদের উপর এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় সপ্তাহ্ পেড়িয়ে গেলেও পুলিশ একটি আসামীও ধরতে পারলো না। এতে আমরা সাংবাদিকরা খুবই হতাশ।

এ বিষয়ে মামলার বাদী জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. পলাশ খান বলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় আমিসহ ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়। এঘটনায় আহত সাংবাদিকদের পক্ষে আমি বাদী হয়ে জাজিরা থানায় গত ২২ মে একটি মামলা দায়ের করলেও সপ্তাহ্ পাড় হয়ে গেলেও পুলিশ কোনো আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুল আলম বলেন, আমরা আসামী ধরার আপ্রাণ চেষ্টা করছি।

বার্তা বাজার/এইচএসএস