নোয়াখালী হাতিয়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমেলের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারে হাতিয়ার কয়েকটি জায়গায় বেড়িবাঁধ ছিড়ে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় পঞ্চাশ হাজার মানুষ গৃহবন্দী হয়ে মানবতার জীবনযাপন করছে।

সোমবার দুপুরের পরে আসা জোয়ারে উপজেলার হরণী, চানন্দী, সুখচর, নলচিরা, তমরদ্দি, চর ইশ্বর, সোনাদিয়া সহ নিঝুমদ্বীপের ১৪টি গ্রাম ৪ থেকে ৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। বাড়ি-ঘরে পানি ডুকে ভেসে গেছে এসব এলাকার পুকুরের মাছ এবং গবাদীপশু।

নিঝুম দ্বীপ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দিনাজ উদ্দিন জানান, নিঝুম দ্বীপের প্রায় সবকটি গ্রাম ৪ থেকে ৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। প্রধান সড়কের উপর দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হওয়ায় সড়কের তিনটি জায়গায় প্রায় ১৫০মিটার রাস্তা ভেঙ্গে খালে পরিণত হয়েছে । দ্বীপের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে চলাচল করতে নৌকা দিয়ে এসব জায়গা পার হয়ে হচ্ছে।

এ ছাড়া গ্রামের কাঁচা রাস্তা জোয়ারের স্রোতে সম্পূর্ণ ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। অনেকে গবাদি পশু নিয়ে কিল্লার উপর ও আশ্রয় কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছে। ভেসে গেছে প্রায় ২০০ পুকুরের মাছ।

এছাড়া হাতিয়ার সূখচর ইউনিয়নের ডালচর ও হরনী ইউনিয়নের চরঘাসিয়ায় জোয়ারের পানিতে ৪ থেকে ৫ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বেরিবাঁধ না থাকাই এলাকা খুব সহজে জোয়ার পানিতে প্লাবিত হয়। চরঘাসিয়ায় জনতা বাজারের ব্যবসায়ী মাকসুদ জানান, এই চরে বেড়ীবাঁধ না থাকাই অস্বাভাবিক জোয়ারে বিশ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জোয়ারে পানিতে বাজারের উপর প্রায় চার থেকে পাঁচ ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়।

এছাড়া হাতিয়ার নলচিরা ঘাটের দশটি দোকান জোয়ারের স্রোতে ভেসে যায়, জোয়ারের সাথে সাথে ঢেউয়ের তীব্রতার কারণে এসব দোকান সম্পন্ন বিধ্বস্ত হয়। অনেকে মালামাল নিয়ে বেড়িবাঁধ এর উপরে রাখেন। তবে বেশিরভাগ দোকানের মালামাল সহ দোকান নদীর পানিতে ভেসে যায়। নলচিরা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ইউনুছ জানান, অনেক দোকানি মালামাল নিরাপদে নিতে পারেনি। চোখের সামনে অনেকের দোকান নদীর পানিতে ভেসে যায়।

এদিকে সকাল থেকে হাতিয়ায় প্রচুর বৃষ্টি এবং বজ্রপাত সহ দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। উপজেলা আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, গতকাল সন্ধ্যা থেকে আজ সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত ৮১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সে সাথে সন্ধ্যার দিকে ৪৮ নটিক্যাল মাইল ব্যাগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে গেছে। ঘূর্ণিঝড়টি ক্রমেই বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।

হাতিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শুভাশীস চাকমা জানান, হাতিয়াতে ঘূর্ণিঝড় রিমেলে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জোয়ারের স্রোতে অনেকের ঘরবাড়ি ভেসে যায়। এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিপূর্ণ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়নি।

 

বার্তা বাজার/এইচএসএস