খেলায় হারজিত থাকবেই, তবে কিছু কিছু হার লজ্জার। যেমন হিউস্টনে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটা ৬ রানে হেরে সিরিজ খোয়ানোটা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ক্রিকেটের চূড়ান্ত লজ্জাজনক মুহূর্তের একটি।

অপেশাদার, অভিবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া একটা দল হারিয়ে দিল ২৪ বছর ধরে টেস্ট খেলা পুরোদস্তুর পেশাদার এবং দেশের গন্ডিতে ঈর্ষণীয় তারকাখ্যাতি পেয়ে আসা দলটাকে।

একটা ক্রিকেট ম্যাচ মাঠে গড়ালে সেখানে কেউ রান করবে, কেউ উইকেট পাবে, কেউ ক্যাচ ধরবে এটাই স্বাভাবিক। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা, খেলার ধরন, আউট হওয়ার ভঙ্গিমা সবকিছুর ভেতরই অদ্ভুত এক ছন্নছাড়া নির্লিপ্ততার ছাপ।

আগে ব্যাট করে যুক্তরাষ্ট্র করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৪ রান। শরিফুল ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান আর রিশাদ হোসেন প্রত্যেকে মিলে ২ উইকেট করে ভাগ করে নিয়েছেন। মোনাক প্যাটেলের ৩৮ বলে ৪২ রানই সর্বোচ্চ মার্কিনিদের ইনিংসে।

১২০ বলে ১৪৫ রানের সমীকরণ মিলে যাওয়ারই কথা। মিলল না সৌম্য সরকারের অবিমৃষ্যকারিতায়, নাজমুল হোসেন শান্তর দায়িত্বে অবহেলায়, সাকিবের খেয়ালিপনায়, মাহমুদউল্লাহর ব্যর্থতায়। শূন্য রানে সৌম্যর বিদায়, যখন দলের রান মাত্র ১। শান্তর সঙ্গে তানজিদ তামিম ৩০ রানের জুটি গড়ে বিপদটা সামাল দিলেও মূলত শান্তর রান আউটেই বদলে যায় ম্যাচের রঙ। ৩৭ বলে ৪৮ রান জুড়ে খেলাটা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসছিল শান্ত-হৃদয়ের জুটি। কিন্তু এমন সময়ই সর্বনাশা রান আউট, দিকভ্রান্তের মতো শান্তের দৌড় আর কোরে অ্যান্ডারসনের বুদ্ধিদীপ্ত ভ‚মিকা। বল না ছুড়ে নিজেই বল নিয়ে দৌড়ে গিয়ে স্টাম্প ভাঙা। পেসারের বলে কাট-শটে সাকিবের বিদায়, দলের বিপর্যয়ের মুখে বোল্ড হয়ে মাহমুদউল্লাহর বিপদ বাড়িয়ে তোলেন। বাংলাদেশ হেরে গেল ৬ রানে।

এই হারে কম সমালোচনার মুখে পড়তে হয়নি দলকে। সমালোচনা করতে কেউই ছাড়ছেন না। তবে প্রবাসী কথাসাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনের সমালোচনাটা একটু অন্যরকম হলো। তার মতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এস্কিমোদের কাছেও হারবে। সামাজিক মাধ্যমে তসলিমা নাসরিন বলেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এস্কিমোদের কাছেও হারবে। খেলা শুরু হওয়ার আগে ব্যাট কীভাবে ধরতে হয়, সেটা, আর খেলার নিয়মটা একবার এস্কিমোদের বলে দিলেই হবে। বিশ্বাস না হয় আয়োজন করুন, দেখুন।

তাসলিমার এই পোস্টে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েচ্ছে। নেটিজেনরা তসলিমার সঙ্গে একাত্মতাও প্রকাশ করেছেন।