উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত হবে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করতে ঢাকা থেকে শিশু মারিয়াকে নিয়ে গ্রামে এসেছিলেন মা বাবা। গ্রামে এসে ভাগ্নী লামিয়ার সঙ্গে খেলাধুলা করতে গিয়েছিল ছোট্ট মারিয়া। এরপর বাড়ীর সকলের অগোচরে পুকুরের পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার সাইক্যা গ্রামে এঘটনা ঘটেছে।

নিহত মারিয়া (৮) উপজেলার গোসাইরহাট ইউনিয়নের সাইক্যা গ্রামের রতন সরদার ও মুন্নী বেগম দম্পত্তির ছোট মেয়ে। লামিয়া (৭) একই উপজেলার বালুচর গ্রামের শাহীন মালের মেয়ে। সম্পর্কে তারা দুইজন খালা-ভাগ্নী।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নির্বাচনে ভোট প্রয়োগ করতে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন মারিয়ার মা-বাবা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মারিয়া তার ভাগ্নী লামিয়ার সঙ্গে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এরপর দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করেও তাদেরকে আর পাওয়া যায়নি। পরে সন্ধ্যার দিকে বাড়ির পাশের একটি পুকুর পাড়ে মারিয়ার জুতা দেখতে পায় তার বড় বোন আশা মনি। পুকুর পাড়ে জুতা দেখে সন্দেহ হলে টর্চ লাইটের আলো জালিয়ে দেখা যায় পুকুরে মারিয়ার মরদেহ ভেসে রয়েছে। এরপর স্থানীয়দের সহযোগিতায় মারিয়া ও লামিয়াকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পেলেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।

নিহত মারিয়ার বড় বোন আশা মনি বলেন, আমার মা বাবার সঙ্গে মারিয়া ঢাকায় থাকেন। নির্বাচনে ভোট দিতে তাদের সাথে গত মঙ্গলবার গ্রামে এসেছিলেন তারা। অনেকদিন পর গ্রামে এসে সমবয়সী ভাগ্নী লামিয়াকে পেয়ে দুপুরে খেলতে বের হয়েছিল মারিয়া। এরপর তাদের মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। আমার আদরের ছোট বোন ও ভাগ্নী আর নেই। আমি এখন কি নিয়ে বাঁচবো।

এবিষয়ে গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পুষ্পেন দেবনাথ বলেন, নিহত শিশু মারিয়া ও লামিয়ার মরদেহ তাদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিনা ময়নাতদন্তে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হবে।

বার্তা বাজার/এইচএসএস