ফরিদপুরে বাবার ধর্ষনে কন্যা সন্তানের জম্ম দিয়েছে এক কিশোরী । এমন অভিযোগে কিশোরীর মা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় স্বামীকে আসামী করে মামলা করলে মঙ্গলবার (২১ মে) পুলিশ গ্রেপ্তার করে ওই কিশোরীর বাবাকে ।

এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোরীর মা স্থানীয় একটি জুট মিলে কাজ করেন। সেখানে মাঝে মাঝেই রাত্রিকালীন কাজ করতে হয় তাকে। গত বছরের ১৫ মে রাতে ওই কিশোরী কন্যাকে ডেকে নিজ কক্ষে নিয়ে যায় বাবা। পরে ইচ্ছের বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে ওই কিশোরীকে। এসময় চিৎকার করলে দা দিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখায়। এরপরে নিয়মিত চলতে থাকে ধর্ষণ। এক পর্যায়ে কিশোরী গর্ভবতী হয়ে পড়লেও পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি গোপন রাখা হয়।

গত ১৫ মে ওই কিশোরী ফরিদপুরের মাতৃমঙ্গল হাসপাতালে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। পরে ওই হাসপাতালেই একজনের কাছে কন্যা শিশুকে বিক্রি করে পরদিন বাড়ি যায় কিশোরী ও তার পরিবার। এসময় এলাকাবাসী সন্তান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।

পরে ফরিদপুর কোতয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে প্রাথমিক তদন্ত করে। কিশোরীর বিক্রি করা কন্যাকে উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফেরত দেয় পুলিশ। এরপরে ওই কিশোরীর মা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
এদিকে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ভুক্তভুগী ওই কিশোরীর সঙ্গে স্থানীয় আরও দুই ব্যক্তির সম্পর্ক ছিল। যদিও কিশোরী ও তার মা বাবাকে আসামি করেছে, কিন্তু পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।

ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি মো. হাসানুজ্জামান, ওই কিশোরী, সদ্য ভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তান ও আসামির ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করে তা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হবে। ডিএনএ রিপোর্ট পেলে নিঃসন্দেহে বলা যাবে কে অপরাধী। আপাতত আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।