বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা থেকে লুট হওয়া ২৬৫ বস্তাভর্তি ধান ও ব্যবহৃত ট্রাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযানে চোর-ছিনতাই চক্রের মূলহোতাসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সংঘবদ্ধ অপরাধীরা ড্রাইভার-হেলপার সেজে কৌশলে ধান লুট করতো বলে জানিয়েছে পুলিশ। তারা বিভিন্ন ড্রাইভারের নাম ব্যবহার করে এবং ট্রাকে ভুয়া নম্বরপ্লেট লাগিয়ে লুট করে। চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদকসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

শুক্রবার (১৭ মে) দুপুরে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পদোন্নতিপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার) মো. আব্দুর রশিদ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।

ধান লুটের ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার হাজরাবাড়ি এলাকার মৃত জাফর আলীর ছেলে ট্রাক ড্রাইভার সামিউল হক (৪২), সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বালিয়াকান্দি-কড়ইতলার নরদেশ নজ্জেশের ছেলে মামুন আহমেদ (২৬) ও মাসুদ রানা (২৯)। এর আগে বৃহস্পতিবার সিরিজ অভিযান চালিয়ে ঢাকা আশুলিয়ার জিরাবো ফুলতলা এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওমর আলী, নন্দীগ্রাম থানার ওসি আজমগীর হোসাইন আজম, ওসি (তদন্ত) জামিরুল ইসলাম, সেকেন্ড অফিসার (উপ-পরিদর্শক) জিয়াউর রহমান জিয়া উপস্থিত ছিলেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে নন্দীগ্রাম থানায় মামলা হয়েছে। গত ২৯ এপ্রিল নাটোরের সিংড়া উপজেলার কৈ-গ্রামের ব্যবসায়ী ওয়াজেদ আলী ২৬৫টি পাটের বস্তাভর্তি ৫০১মণ ধান ক্রয় করে দিনাজপুর জেলার সোনালী অটোরাইস মিলে বিক্রয় করার জন্য একটি ট্রাক ভাড়া নেওয়ার জন্য খোঁজ করছিলেন। আগে থেকেই ওৎপেতে থাকা সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা সুযোগটি কাজে লাগায়। তারা আল মুজাহিদ ফিরোজ নামের ড্রাইভার পরিচয়ে ভুয়া নম্বরপ্লেট (চট্রো-মেট্রো-ট-১১-৪৩৩৭) একটি ট্রাক নিয়ে ওই ব্যবসায়ীর কাছে উপস্থিত হয়। নন্দীগ্রামের রনবাঘা বাজার সংলগ্ন মহাসড়কের বাঁশের ব্রিজ এলাকা থেকে বস্তাভর্তি ধানগুলো সেই ট্রাকে তুলে নিয়ে উধাও হয়। গত বৃহস্পতিবার বিষয়টি থানা পুলিশকে জানালে মামলা হয়। এরপর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে জামালপুর সদর থানা এলাকা থেকে লুটের কাজে ব্যবহৃত ট্রাক এবং পাবনার চাটমোহর থানা এলাকা থেকে ২৬৫ বস্তা ধান উদ্ধার করা হয়।

বার্তা বাজার/এইচএসএস