চাকরি জীবনের পড়ন্ত বেলায় এসে এসএসসি পাস করেছেন বগুড়ায় কর্মরত ট্র্যাফিক পুলিশের কনস্টেবল আব্দুস সামাদ (৫৭)। নাটোরের লালপুরের মোহরকয়া নতুনপাড়া মাধ্যমিক কারিগরি ও ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট থে‌কে পরীক্ষায় অংশ নিয়ে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। আব্দুস সামাদের এই অর্জনকে ছোট বড় সকলের জন্য অনুকরণীয় বলছেন সহকর্মীরা।রবিবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে পুলিশ সদস্য আব্দুস সামাদের এই সাফল্যের বিষয়টি জানা যায়।৩৭ বছর আগে অষ্টম শ্রেণি পাশ শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে পুলিশ বিভাগে যোগদান করেন আব্দুস সামাদ।

আব্দুস সামাদ রাজশাহীর বাঘা উপজেলার আশরাফপুর গ্রামের বাসিন্দা। ব্যক্তি জীবনে তার স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলে ঢাকায় রয়েছেন। মেয়েটির বিবিএ পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়। আর ছোট ছেলে ইলেক্ট্রিক্যাল নিয়ে ডিপ্লোমা করছেন।

আব্দুস সামাদ ব‌লেন, ‘গত দু মাস হলো বগুড়া কর্মস্থলে যোগদান করেছি। এর আগে পাবনার ঈশ্বরদীর ট্র্যাফিক বিভাগে ছিলাম। সেখানে থাকা অবস্থায় নাটোরের লালপুরের একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হই। তবে পরীক্ষার রেজাল্টের আগেই বগুড়ায় বদলি হয় গেছি।’ তিনি জানান, প্রায় ৩৭ বছর আগে পুলিশ বিভাগে চাকরি পেয়েছি। সে সময় এসএসসি সম্পন্ন করা ছিল না। চাকরির মেয়াদও শেষের দিকে, আর মাত্র দু মাস বাকি। চাকরি শেষে অবসরটা বসে না থেকে কিছু করতে চাই। এ জন্য নতুন করে পড়ালেখা শুরু করা। এবার এইচএসসি পাশের জন্য বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজে ভর্তি হবেন তিনি।

সামাদ আরও বলেন, অবসরের জীবনটা এমনি এমনি কাটাতে চাই না। আমার অনেক দিনের ইচ্ছা হোমিও চিকিৎসা পেশায় আসা। সেই উদ্দেশ্য নিয়েই এসএসসি দিয়েছি। আমার ইচ্ছা আছে বগুড়ার হোমিও কলেজ থেকে পড়ালেখা করার।পুলিশ সদস্য আব্দুস ছামাদের এসএসসি পাশের বিষয়টি ইতোমধ্যে তার কর্মস্থলের সবাই জেনেছেন। এজন্য সবাই তাকে সাধুবাদও জানাচ্ছেন। বগুড়া সদর ট্র্যাফিক পুলিশের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মাহবুবুল ইসলাম খান বলেন, চাকরি জীবনের প্রায় শেষ বয়সে এসে এসএসসি পাশ করা খুব আনন্দের বিষয়। এতে বোঝা যায় যে শিক্ষার প্রতি তার একটা আগ্রহ এবং অনুরাগ রয়েছে। আমরা এ বিষয়টিকে সাধুবাদ জানাই। যখন তিনি পুলিশ ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছিলেন তখন শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি পাশ করেই যোগদান করা যেত। তিনি সেটাই করেছিলেন।

পরবর্তীতে হয়ত বিভিন্ন ব্যস্ততার কারণে, সুযোগ সুবিধার অভাবে হয়ত পড়তে পারেননি।মাহবুবুল ইসলাম আরও বলেন, তার ভেতরে শিক্ষার সেই স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষাটা এতদিনেও যে রয়ে গিয়েছিলো। এটা সত্যিই সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। আমি মনে করি আব্দুস সামাদ শেষ বয়সে এসে এসএসসি পাশ করলো এটা ছোট বড় সবার জন্য অনুকরণীয়। সবাই উপলব্ধি করুক যে শিক্ষা গ্রহণের কোন বয়স নেই।