ঈদ মৌসুমে যেখানে কোটি টাকার বাণিজ্য করার কথা, সেখানে কেমিক্যাল সংকটে বন্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অটোমেশিন নির্ভর পাদুকা কারখানাগুলোর উৎপাদন। বছরের আট থেকে নয়মাস কাজের তেমন চাপ না থাকলে রমজানসহ দুটি ঈদে কাজের চাপ বেড়ে যায় কয়েকগুন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে পাদুকা কারিগরদের কর্মযজ্ঞ। ঈদ মৌসুমে অটোমেশিন দিয়ে প্রতিদিন কয়েক হাজার জোড়া জুতা উৎপাদন হওয়ার কথা, অথচ এমন সময়েও অলস পড়ে আছে এর কার্যক্রম। মূলত ক্যামিকেল সংকটের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অটোমেশিন নির্ভর পাদুকা কারখানাগুলোতে এখন এমন হতাশার চিত্র। ব্যবসায়িরা জানান, জেলায় ২৬টি অটোমেশিন নির্ভর জুতার কারখানা রয়েছে। যেখানে প্রতিদিন প্রত্যেকটি কারখানায় অন্তত ১০ লক্ষ টাকার বিভিন্ন ধরণের জুতা তৈরী হয়ে থাকে। বিশেষ করে রমজান এলে বাড়ে তাদের কাজের চাপ। তবে গেল দু’ সপ্তাহের বেশী সময় ধরে তাদের কেমিক্যাল সংকটে ধুকছে কারখানাগুলো। ইতিমধ্যে অধিকাংশ কারখানার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। হাতেগুনা যে এক-দুটি চলছে সেসবেরও রসদ ফুঁড়িয়ে আসায় ২/৩ দিনের মধ্যে বন্ধ হবে উৎপাদন।

কথা হয় এক্টটিভ ফুটওয়্যার কারখানার মালিক রাকিব আহমেদের সাথে। তিনি বলেন, আমদানীকারকদের কাছ থেকে জুতার সোল্ড তৈরীতে বিশেষ জাতের পিউ কেমিক্যালের সরবরাহ মিলছে না। মূলত আমদানি করা কেমিক্যাল চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে আছে। বার বার আমদানিকারকদের সাথে যোগযোগ করা হলেও দেম দিচ্ছিতে আটকে আছে সব। সঠিক সসয়ে কেমিক্যাল না পাওয়াতে আমাদের প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকা লোকসান হচ্ছে।
সেভেন স্টার কারখানার মালিক মো: হানিফ মিয়া বলেন, বছরে আট মাস কাজের চাপ না থাকলেও রমজান আসার ঠিক ১৫ দিন আগে থেকে কাজের চাপ বেড়ে যায়। জুতার সব উপকরণ থাকলেও কেমিক্যালের কারনে তা তৈরী করা যাচ্ছে না। এতে আমাদের ব্যবসায়িদের যেমন সমস্যা হচ্ছে শ্রমিকদের একই অবস্থা।
সরেজমিন অটোমেশিন পাদুকা কারখানাগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, কর্মচাঞ্চলতার কোন পরিবেশ নেই। শ্রমিকরা অলস সময় পার করছেন। জুতার সব উপকরণ তৈরী করে রাখলেও কেমিক্যালের অভাবে তা পুরোপুরিভাবে ফিটিং করতে পারছে না।

একাধিক শ্রমিকরা বলেন, সারা বছর কাজ করে যা আয় করি। আমাদের তিনমাসে কাজের সিজনে দ্বিগুন টাকা পায়। যা দিয়ে আমাদের পরিবার পরিজন নিয়ে চলতে কষ্ট হয় না। এবারের মৌসুমে আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। টানা ১৫ দিন কাজ নেই। এখন আমাদের মালিকই চলবে কিভাবে আমরা বেতন পাব কিভাবে। জুতার পিউর কেমিক্যালের কারনে আমাদের কাজ বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পিউ ফুটওয়্যার এসোসিয়েশনের সভাপতি মো: আমানউল্লাহ বলেন, ২৬ টি অটোমেশিন কারখানায় দুই সপ্তাহ ধরে কেমিক্যালের কারনে কাজ বন্ধ রয়েছে। এসব কারখানায় প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কাজ করে। তারাও বেকার অবস্থায় রয়েছে। তাদেরকে কোন কাজ দিতে পারছি না। কবে নাগাদ কেমিক্যালের সরবরাহ মিলবে তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছি। সংকট সমাধানে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।দ্রুত কেমিক্যালের ব্যবস্থা করে দিলে সব ব্যবসায়িরা লোকসানের হাত থেকে বাঁচতে পারবে।