রপ্তানিমুখী শিল্পে কর্মহীন হয়ে পড়া ও দুঃস্থ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি (ইএসএসপি) বাস্তবায়নে শ্রমিকদের অবহিতকরণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রচারাভিযান সফল করতে এসআরএস-এর উদ্যোগে পিয়ার সাপোর্ট গ্রুপের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান।

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধিভূক্ত শ্রম অধিদপ্তর রপ্তানিমুখী শিল্পে কর্মহীন হয়ে পড়া ও দুঃস্থ শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন নীতিমালা ২০২০ (সংশোধিত-২০২২)’ অনুযায়ী বিভিন্ন রপ্তানিমুখী শিল্প যেমন তৈরি পোশাক, পাদুকা ও চামড়াজাত পণ্য, ট্যানারি কারখানার শ্রমিকদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে কর্মহীন ও দুস্থ শ্রমিকদের বিনামূল্যে তথ্য প্রদান ও যাচাই সাপেক্ষে মাসিক ৩,০০০ টাকা করে সর্বাধিক ৩ মাসে মোট ৯,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। নগদ অর্থ সরাসরি শ্রমিকের ব্যাংক একাউন্ট/মোবাইল ব্যাংক একাউন্টে ইলেকট্রনিকি পদ্ধতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠানো হয়।

সরকারের এই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্পর্কে বহু শ্রমিক অবগত নন। সচেতনতার অভাবে উপযুক্ত অনেকে উপকারভোগী এই (ইএসএসপি) কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারছে না। বর্তমানে সরকার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় উপযুক্ত উপকারভোগীকে সামাজিক সুরক্ষার অধীনে আনার জন্য ইএসএসপি অংশগ্রহণকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপায়ে সামাজিক সুরক্ষার তথ্যটি ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ গ্রহণ করছে, মাঠ পর্যায়ে কাজটি বাস্তবায়ন করছে ‘সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটি (এসআরএস)।

এসআরএস প্রকল্পের অধীনে কমিউনিটি মিটিং এবং সমাবেশ, পিয়ার সাপোর্ট গ্রুপ তৈরি, কমিউনিটি পর্যবেক্ষণ, ট্যানারি শ্রমিক ইউনিয়নের বিভিন্ন কারখানা প্রতিনিধিদের মিটিং, কারখানার মডি লভেলে ম্যানেজমেন্টের সাথে যোগাযোগ, অনলাইন মিডিয়া ক্যাম্পেইন এবং শ্রমিকদের তথ্য সংগ্রহ সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালনর উদ্যোগ গ্রহণ করছে। উক্ত কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১৫ ও ১৭ মার্চ ২০২৪ সকাল ১০টায় এসআরএস উদ্যোগে চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনকারী শ্রমিকদের জন্য নতুন পিয়ার সাপোর্ট গ্রুপ দুটি ব্যাচ গঠন করা হয়। এসআরএস-এর এই পিয়ার সাপোর্ট গ্রুপ তাদের কর্ম এলাকায় কারখানার শ্রমিকদের মাঝে এই সুরক্ষা কর্মসূচি তথ্য সম্পর্কিত পোস্টার, লিফলেট, বিতরণ করবে। এসআরএস-এর উক্ত প্রচারাভিযানে আপনিও অংশগ্রহণ করুন শ্রমিকদের তাদের সুবিধার কথা জানান।

উক্ত ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন ইএসএসপি অংশগ্রহণকারীদের সিনিয়র এক্সপার্ট (লেবার কম্পোনেন্ট) সৈয়দা সাদিয়া হাসান তানি বলেন এপর্যন্ত ১০,২২২ জন শ্রমিককে এই কর্মসূচির আওতায় আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন। আপনাদের দ্বারা এই কর্মসূচিতে আরও শ্রমিকদের নবীনধন করা হবে এবং একই ভাবে সহায়তা প্রদান করা হবে।

বক্তব্য রাখেন ইএসএসপি প্রকল্পের ক্যাম্পেইন কো-অর্ডিনেটর, এডভোকেট ফারুক হোসেন ও প্রোগ্রাম এ্যাসিস্ট্যান্ট মোঃ মাজদেউর রহমান। হাজারীবাগ এলাকার জুতা ও চামড়াজাত পণ্য তৈরি ১২টি কারখানার মোট ৪০ জন শ্রমিক সহ ফিল্ড অফিসার মোঃ আশরাফ উদ্দিন ও মোঃ বপ্লব হোসাইন, উপস্থিত ছিলেন।