গাঁজার ব্যবসা করতে নিজ বাড়ির পাশে বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘিরে লাগিয়েছিলেন গাঁজার গাছ। সেই গাছ থেকেই গাঁজার পাতা সংগ্রহ করে, তা রোদে শুকিয়ে বিক্রি করতেন স্থানীয় মাদকসেবীদের কাছে। এমনই গাঁজা চাষী বীরবল (৪০) সহ তার আরো তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট থানা পুলিশ।

শনিবার (১৭ ফেব্রুয়ারী) রাত ১০ টায় উপজেলার ৩নং সিংড়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করে পুলিশ। এসময় প্রায় ১১ ফিট উচ্চতার একটি গাঁজার গাছ জব্দ করা হয়। কচি পাতা ও ডালপালা সহ গাছটির ওজন ১৩ কেজি। এছাড়াও তাদের কাছে ৭০ গ্রাম শুকনো গাঁজা এবং গাঁজা কাটার লোহার বাটাল এবং কাঠের টুকরো জব্দ করেছে পুলিশ। জব্দকৃত কাঁচা গাঁজার আনুমানিক বাজার মূল্য ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় রাতেই উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে একটি মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার আসামীরা হলেন, উপজেলার ৩নং সিংড়া ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামের শ্রী ভেলুরামের ছেলে বীরবল (৪০),  শ্রী মনিন্দের ছেলে সত্যজিৎ (৩০), সাতপাড়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে শাহ আলম (৩৫) এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার সুলতানপুর গ্রামের মৃত পুলিন চন্দ্র দাসের ছেলে উপেন দাস (৫৫)।

মামলার এজাহারসূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে পুলিশ জানতে পারেন বীরবল নামের এক ব্যক্তি নিজ বাড়িতেই গাঁজার চাষ করেছেন। সেই গাঁজার বাগানে চলছে গাঁজা বিক্রি। খবর পেয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান, অসীম কুমার মোদক এবং অরুপ কুমার রায় সহ থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। গ্রেপ্তার বীরবলের বাড়ির পশ্চিম পাশে বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘেঁড়া গাঁজার গাছের সন্ধান শুরু করলে সেখান থেকে কয়েকজন দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাদের পিছু নিয়ে ৪ জনকে আটক করে এবং গাঁজার একটি বিশাল আকৃতির গাছ জব্দ করে।

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ বার্তা বাজারকে বলেন, দীর্ঘ কয়েকমাস আগে নিজ বাড়িতেই গাঁজার ছোট চারা রোপন করেছিলেন আসামী বীরবল। গাছটি বড় হতে থাকলে সে বাঁশের চাটাই দিয়ে ঘেঁড়া দেয়। যাতে গাছটি কেও দেখতে না পারে। ওই গাছ থেকেই পরিপক্ক পাতা সংগ্রহ করে তা রোদে শুকিয়ে বিক্রি করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন আসামীরা। গ্রেপ্তার চারজনকে রবিবার দুপুরে দিনাজপুরের বিজ্ঞ আদালতে উঠানো হবে।