দেশের জনগণ ঐক্যবদ্ধ হলেও রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ না হওয়ায় আন্দোলন ব্যর্থ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান।

বুধবার (২৪ জানুয়ারি) দুপুরে মিথ্যা এবং হয়রানিমূলক রাজনৈতিক মামলায় আটক রাজবন্দিদের মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবে সামনে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে এ মন্তব্য করেন তিনি। গণঅধিকার পরিষদের নেতা উজ্জ্বল, ছাত্রনেতা বিন ইয়ামিন ও যুব অধিকার পরিষদের বগুড়া ধনুট উপজেলার নেতা-কর্মীসহ সকল রাজবন্দি, আলেম-ওলামাদের মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এই প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচির আয়োজন করে গণঅধিকার পরিষদ, ঢাকা মহানগর।

রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার একটি ভুয়া নির্বাচন করেছে। এই নির্বাচন জনগণ গ্রহণ করেনি। সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়েছে। নির্বাচন কমিশন একেক সময় একেক বক্তব্য দিয়েছে, ভোটের হার নিয়ে তারা জালিয়াতি করেছে। শোনা যাচ্ছে, রাতেই নাকি ব্যালট পেপারে সিল মেরে বক্স ভর্তি করে ভোটকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। যাতে জনগণ ভোটকেন্দ্র না গেলেও ভোটের হার কিছুটা বেশি দেখানো যায়। জালিয়াতির এই সরকার এখন এই সরকার বলে বেড়াচ্ছে তাদের নাকি আমেরিকা, ইউরোপ, জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিয়েছে, অভিনন্দন জানিয়েছে।

গতকাল জাতিসংঘ বলেছে, তারা তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে যায়নি, রীতি অনুযায়ী অভিনন্দন জানিয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্র আবারও বলেছে, নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়নি। কিছু কিছু দেশ কুটনৈতিক সম্পর্কের জায়গা থেকে অভিনন্দন জানাতে পারে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, সবাই অবৈধ নির্বাচন মেনে নিয়েছে।

তিনি বলেন, অনেক জায়গায় বিএনপিসহ আমাদের আন্দোলনের ব্যর্থতা খুঁজে বেড়ানো হচ্ছে। কিন্তু আমরা কি আসলেই ব্যর্থ? সরকার কিভাবে নির্বাচন করেছে, সেটা তো সরকারের সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক সাহেব বলেই দিয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব থেকে শুরু করে ৩০০০০ নেতাকর্মী জেলে, গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সাজা দেয়া হয়েছে, জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে বাংলাদেশকেই ওরা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।

তিনি বলেন, আজকে ভারত সরকার বাংলাদেশকে তাদের করদ রাজ্য সিকিম বানাতে চায়। ভারতে দেখেন বাবরি মসজিদ ভেঙে রাম মন্দির তৈরি করছে। সারাবিশ্বের মুসলিম সেন্টিমেন্টের উপর আঘাত করা হয়েছে। কিন্তু এই আওয়ামী লীগ সরকার কোন প্রতিবাদ করেনি। তারা ভারতের হিন্দুত্ববাদ সরকারের কাছে মাথা নত করেছে, দেশটাকে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছে। কিন্তু দেশের জনগণ সেটি মেনে নিবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে ভারতের আগ্রাসন নিয়ে প্রতিবাদ করতে হবে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংসের মূল নায়ক ভারত। গণমানুষ আজকে ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে মানুষের পালস বুঝে কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ করতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু ঘরে বসে ফেসবুকে প্রতিবাদ জানালেই আন্দোলন তৈরি হবে না। আর যদি মনে করেন, আমেরিকা ইউরোপ ক্ষমতায় বসিয়ে দিবে, সেটি ভুল। আমেরিকা ইউরোপ হয়তো গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলবে, কিন্তু রাজপথে আন্দোলন আমাদেরকেই করতে হবে। গণঅভ্যুত্থান ছাড়া সরকারকে সরানো যাবে না। আজকে ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান দিবস। ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান আসাদ, মতিউরদের রক্তে আইয়ূব খানের পতন হয়, জনগণ রাজপথে নেমে আসলে আবারও গণঅভ্যুত্থান হবে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন হবে। ৭ই জানুয়ারি ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার মাধ্যমে জনগণ যে ঐক্যবদ্ধ, সেটির প্রমাণ তারা করেছে। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ না হওয়ায়, জনগণ সম্পৃক্ত হচ্ছে না। জনগণের ঐক্য হলেও রাজনৈতিক দলগুলোঐক্যবদ্ধ না হওয়ায় আন্দোলন বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। সুতরাং সমস্ত বিভেদ ভুলে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে, তাহলেই জনগণ রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে নেমে আসবে।

গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি এডভোকেট নাজিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন, উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ফাতিমা তাসনিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, মশিউর রহমান, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জাল হোসেন প্রমুখ।

বার্তাবাজার/এম আই