শাঁখা আর সিদুর দেখে ভাবছেন ছবিতে ওই নারী নিশ্চয়ই হিন্দু ধর্মালম্বী? কিন্তু না। সে মুসলিম ধর্মালম্বী (রোহিঙ্গা), আসল নাম সাথি আক্তার সালমা, সে কক্সবাজার জেলার কলাতলীর পাকগোনা পাহাড়ের ওপর বসবাস করা মশিউর রহমানের কন্যা। দীর্ঘ ৭ বছর আগে তার বোন জামাইয়ের হাত ধরে রাজধানীতে আসে। সেখান থেকে মিরপুরে বসে পরিচয় হয় বিশ্বনাথ মোহন্তর সাথে। এরপর মোবাইল নাম্বার নিয়ে কথা বলতে বলতে এক পর্যায়ে হয়ে যায় মনে দেয়া নেয়া। বিশ্বনাত মোহন্ত দিনাজপুর জেলার ফুলবাড়ী এলাকার ললিত মোহন্তর পুত্র। সে ভাটারায় দীর্ঘ দিন যাবত কামার পেশার সাথে জড়িত আছেন।

প্রেম মানেনা কোন ধর্ম। তারই ধারাবাহিকতায় দুজনের সম্পর্ক গড়াতে গড়াতে এমন পর্যায়ে পৌছেছে, শেষ পর্যন্ত সালমাকে ফুসলিয়ে রাতারাতি কোন কাগজপত্র ছাড়াই নিজের ধর্ম পাল্টে বাসন্তী নাম রেখে ভাটারা থানা এলাকায় ভাটারা মোড় মন্দিরে ঢুকে বিশ্বনাথ মোহন্ত তাকে শাঁখা সিদুর পড়িয়ে বিবাহ করেন। তার দাবি, লিখিত স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর ও স্বাক্ষী রেখে তাকে বিবাহ করেন। এরপর ৪ বছর যাবত ভাটারা নতুন বাজার এলাকায় বিশ্বনাথ মোহন্তের সঙ্গে সংসার করে তার পকেট ফাঁকা করে তার টাকা পয়সা নিয়ে অজান্তে হয়ে যায় নিরুদ্দেশ।

এরপর ৩ মাস পর কোন এক বিপদে পরে ফোন দিয়ে নিজের ভুল স্বীকার করে আবার শুরু করে সংসার। তখন বিশ্বনাথ মোহন্ত তাকে বাসন্তি নামে একটি ভুয়া ভোটার আইডি কার্ড তৈরি করে বাড্ডা সাতারকুলে (মগরদিয়া) এলায়েন্স ফুটওয়ার এন্ড লেদার ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড-এ অপারেটরের হেলপার হিসেবে চাকরি দেন বলে তিনি স্বীকার করেন। চাকরির দুই মাস পর আবার ঘরছাড়া হন বাসন্তী, এখন বাড্ডাতেই তার বসবাস। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন স্বয়ং বিশ্বনাথ মোহন্ত। রাজধানীর বাড্ডাতে বর্তমানে তার বসবাস ও অত্র এলাকায় সে বাসন্তী নামে পরিচিত। বাসন্তীর সাথে কথা হলে বিশ্বনাথ মোহন্তর সাথে সে সংসার করবে না বলে জানায়। এটা জানার পর বিশ্বনাথ মোহন্ত তাকে খুব বিরক্ত করছে বলে জানায় বাসন্তী। তবে বাসন্তী রোহিঙ্গা কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সে সাংবাদিকদের অপমান অপদাস্ত করতেও দ্বিধাবোধ করেনি।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, এর আগেও ছিল তার আরেক সংসার। তার স্বামীর নাম ছিল হাসেম। সে রংপুরের বাসিন্দা। তার ঘরে ছিল ফুটফুটে একটি মেয়ে সন্তান। সেই সন্তানটিকে বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

রোহিঙ্গা নারী চাকরি করার ব্যাপারে বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, সে রোহিঙ্গা নারী হয়ে থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বার্তাবাজার/এম আই