সরকার কারও স্বীকৃতির জন্য অপেক্ষায় বসে নেই বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, অভিনন্দন তো অস্বাভাবিক কিছু নয় বা নতুন করে চালু করার কোনো বিষয় নয়। আমি নির্বাচিত হয়েছি, আমার স্বজন-বন্ধুরা অভিনন্দন জানাবেন, এটা তো স্বাভাবিক। তবে আমরা কারও অভিনন্দনের জন্য, চাতক পাখির মতো অপেক্ষায় বসে আছি; নির্বাচিত একটা সরকার এমন দেউলিয়া অবস্থায় পড়েছে, এমন ভাবার কোনো কারণ নেই।

আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে রোববার সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গণতন্ত্রের রীতিনীতিতে কেউ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে অভিনন্দন জানায়-এটা নতুন কোনো বিষয় নয়-দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। কমনওয়েলথ মহাসচিবও বার্তা পাঠিয়েছেন। গণতন্ত্রের রীতিনীতিতে কেউ প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলে অভিনন্দন জানায়। সেই রীতি অনুযায়ী সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছেন, এটা নতুন কোনো বিষয় নয়।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থতার পর এখন অভিনন্দন বার্তা দেখে বিএনপি হিংসায় জ্বলছে। বিএনপি নির্বাচনে না আসার পরও ৪২ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছে। সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি হিংসায় জ্বলছে। কারণ তারা নির্বাচনে অংশ না নিলেও দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছেন। বিএনপি এখন ঈর্ষাকাতর।

দ্রব্যমূল্য প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে, কমিটি গঠন করা হচ্ছে, সেই লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটা সেল কাজ করছে এবং কীভাবে পরিস্থিতির অবনতি, মূল্যস্ফীতির বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে এবং ব্যবস্থাও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য এখন সারা বিশ্বেই একই অবস্থা, ইউরোপে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৫। যুদ্ধও বাড়ছে, মূল্যস্ফীতিও বাড়ছে, যুদ্ধও বাড়ছে জিনিসপত্রের দামও বাড়ছে। যুদ্ধের ক্ষেত্র দেখুন, বাড়তেই আছে। মাঝে মধ্যে মনে হয় পৃথিবীটা একটা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, মনে হয় সারা দুনিয়াটা একটা যুদ্ধক্ষেত্র। এর প্রভাব দ্রব্যমূল্যে পড়বেই। এটা আমরা চাইলেই রুখতে পারব না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির তথাকথিত আন্দোলনের রূপরেখা কেউ দেখেনি। তাদের আন্দোলনের বিষয়টি স্পষ্ট নয়। তথাকথিত আন্দোলনের ডাক দিয়ে ব্যর্থ হয়ে বিএনপি এখন দেশে-বিদেশে হাসি-তামাশার পাত্রে পরিণত হয়েছে। বিএনপির কথিত আন্দোলন দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ধ্বংসের পাঁয়তারা বলেও মনে করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন, আন্দোলনের নামে বিএনপি সহিংসতার আশ্রয় নিলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তাদের দায়িত্ব পালন করবে এবং আমরাও রাজনৈতিকভাবে তাদের মোকাবিলা করব।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, উপদপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।

বার্তাবাজার/এম আই