বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তার অপরিসীম ক্ষমতায় আইনকানুন, নিয়মনীতি, সংবিধান, শৃঙ্খলা সবকিছু পদতলে পিষ্ট করে দেশে জংলী শাসন কায়েম করেছেন। তার বক্তব্য ভ্রান্ত ও মিথ্যা তথ্যের সমষ্টি ছাড়া কিছুই নয়। তাদের উদ্ভট কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে পেছন থেকে কেউ ধাওয়া করছে আর তারা প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছেন ঊর্ধ্বশ্বাসে।

বুধবার দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, পূর্ব নির্ধারিত ফলাফলের ভোটরঙ্গ ও ভোট গণনা শেষ না হতেই ডামি এমপিদের নামে গেজেট, শপথগ্রহণ, মন্ত্রী পরিষদের নাম ঘোষণা, মন্ত্রীদের শপথ-চারদিনেই অভাবনীয় দ্রুততায় বিশ্ব রেকর্ড করে ভেবেছে বিপদমুক্ত হলেন শেখ হাসিনা। তাকে মনে হচ্ছে অস্থির। ভীতি-ত্রাসে তাড়াহুড়ো করে ক্ষমতা নবায়ন করার অবৈধ শপথ নিতে গিয়ে আইন কানুন ও সংবিধানের কবর রচনা করা হয়েছে। এমনিতেই সংবিধানকে কাটাছেঁড়া করে শেখ হাসিনা আতম্ভরী ও ভাববিলাসী নিরঙ্কুশ ক্ষমতা নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সংবিধানের ৭২ (৩) অনুচ্ছেদে বলা আছে, রাষ্ট্রপতি আগে ভেঙে না দিয়ে থাকলে প্রথম বৈঠকের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অতিবাহিত হলে সংসদ ভেঙে যাবে। যেহেতু রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেননি, তার মানে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত একাদশ সংসদের যারা সংসদ সদস্য ছিলেন, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন।

দেশের আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই মুহূর্তে দেশে মিডনাইট একাদশ সংসদের ৩৫০ জন আর ডামি দ্বাদশ সংসদের ২৯৮ জন মোট ৬৪৮ জন শপথবদ্ধ এমপি রয়েছেন। এখন রাষ্ট্রপতি সংসদ ডাকলে দুই সংসদের সদস্যরাই তাতে যোগ দিতে পারেন। অথচ এটি সাংবিধানিকভাবে অবৈধ। আগামী ২৯ জানুয়ারি একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়া অবধি এই অরাজকতা থাকবে।

এটি একটি চরম সাংবিধানিক লংঘন। গণতন্ত্র ও দেশের স্বার্থে এই সময়ের মধ্যে দ্বাদশ অবৈধ সংসদ বাতিল করে দিতে পারে উচ্চ আদালত। জনগণের প্রত্যাশা শেষ আশ্রয়স্থল আদালত তাদের যুগান্তকারী ভূমিকা নিতে পারে।

রিজভী বলেন, বর্তমানে দুটি সংসদ বহাল অর্থাৎ প্রতি আসনে এখন দু’জন করে এমপি! সত্যিই সেলুকাস, কী বিচিত্র এই দেশ বানিয়েছেন শেখ হাসিনার ক্ষমতার লালসা। সংবিধান বিচ্যুত অবৈধ পন্থায় অবৈধ শপথে অবৈধভাবে জন্ম নেয়া অবৈধ সংসদের অবৈধ কার্যক্রম এবং অবৈধ মন্ত্রী পরিষদের কোন অন্যায্য আদেশ নির্দেশ দেশের জনগণ মানতে বাধ্য নয়। এই কারণেই আওয়ামী লীগের গোটা শাসনামল দুর্নীতি, মহা হরিলুট, মহা সম্পদ পাচার ও মহা মাফিয়া চক্র কবলিত।

বিএনপির এই নেতা বলেন, দেড় দশক ধরে দেশের ভোট বঞ্চিত মানুষের প্রাণ তড়পানো মৌলিক দাবি-নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন। কিন্তু শেখ হাসিনা ও তার লুটেরা পরিষদবর্গ সংবিধানের দোহাই দিয়ে একটির পর একটি বিনা ভোট, নিশি ভোট, ডামি নির্বাচন করে ক্ষমতা দখল করে দেশে জংলী আইনের শাসন কায়েম করেছে। শেখ হাসিনার যেমন খুশি তেমন শাসনের বাকশাল রাজ্যে বিচার বিভাগ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা সব কিছুই তার অঙ্গুলি নির্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। পেশীশক্তির বলে মানবাধিকার, সংবিধান ও গণতন্ত্রের জীবন্ত পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। আইনকানুন নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে আওয়ামী গেষ্টাপোদের হাতে।

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, আপনি যদি আবারো প্রমাণ চান ৩০০ সংসদীয় নির্বাচনী আসনে শুধুমাত্র প্রার্থী আপনি এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনে সারা দেশে তারেক রহমান যদি আপনি শেখ হাসিনার চেয়ে দ্বিগুণ ভোট বেশি না পান, তাহলে কথা দিচ্ছি, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। শেখ হাসিনাকে বলছি, সাহস থাকলে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করুন। দেশের অবিসংবাদিত নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে খিস্তিখেউড় বন্ধ করুন।

জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে কর্মসূচি-

দিবসটি উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী দলীয় কার্যালয় গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে, বৃহস্পতিবার বেলা ২টায় রমনাস্থ ইন্সটিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স—বাংলাদেশ মিলনায়তনে বিএনপি’র উদ্যোগে আলোচনা সভা, শুক্রবার সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরস্থ শহীদ জিয়ার মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুস্পস্তবক অর্পণ করবেন দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও নেতাকর্মীরা।

এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে পোষ্টার এবং পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে। দলের অঙ্গ, সহযোগী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন দিবসটি উপলক্ষে নিজ নিজ সুবিধা অনুযায়ী আলোচনা সভা ও শীতবস্ত্র বিতরণ করবে। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন সমূহ আলোচনা সভাসহ অন্যান্য কর্মসূচি পালন করবে।

বার্তাবাজার/এম আই