দেশকে দুর্ভিক্ষের দিকে ঠেলে দেওয়া ‘আওয়ামী অপশক্তিকে’ প্রত্যাখ্যান করে জনগণকে আগামীকাল ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান এবি পার্টি।

ফ্যাসিবাদী সরকারের পদত্যাগ ও প্রহসনমূলক নির্বাচন বর্জনে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি এবং ৭ জানুয়ারিকে ইতিহাসের কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত করে পুরো দিন ‘স্বেচ্ছায় প্রতিবাদী লকডাউন’ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানায় দলটি।

রাজধানীর বিজয় নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে এ আহ্বান জানান দলের আহ্বায়ক এএফএম সোলায়মান চৌধুরী।

পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পার্টির সদস্যসচিব মজিবুর রহমান মঞ্জু।

সংবাদ সম্মেলনে এএফএম সোলায়মান চৌধুরী বলেন, গতকাল ট্রেন পুড়িয়ে মানুষ হত্যার যে নৃশংসতা করা হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাই। হতাহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্রকে চূড়ান্তভাবে দাফন করার আয়োজন চলছে। এই নির্বাচন জনগণের কোনো নির্বাচন নয়। এটি আওয়ামী লীগ, ডামি আওয়ামী লীগ, সরকারের পদলেহনকারী প্রশাসন এবং সংস্থাসমূহের যৌথ নির্বাচন।

তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা দেখেছেন— একজন প্রার্থী নিজে ঘোষণা করেছেন তিনি ভারতের প্রার্থী। তার পরও নির্বাচন কমিশন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এটা কতবড় তামাশা! আমরা এই নির্বাচন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। যতদিন জনগণের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না হবে, এবি পার্টি আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যাবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

লিখিত বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, এই সরকার দেশের জনগণের অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও স্বাধীন মতামতের মাধ্যমে সরকার গঠনের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার পরম্পরায় ২০১৪ ও ২০১৮ সালের মতো করে আগামীকাল আরেকটি সাজানো নাটক মঞ্চস্থ করতে যাচ্ছে, যার নাম ‘দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন’।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক বিএম নাজমুল হক, যুগ্ম সদস্যসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভুঁইয়া, আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, প্রচার সম্পাদক আনোয়ার সাদাত টুটুল, যুবপার্টির আহ্বায়ক এবিএম খালিদ হাসান, সিনিয়র সহকারী সদস্যসচিব আব্দুল বাসেত মারজান, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক আলতাফ হোসাইন, সহকারী সদস্যসচিব শাহ আব্দুর রহমান, এম আমজাদ খান, মহানগর দক্ষিণের যুগ্ম সদস্যসচিব কেফায়েত হোসেন তানভীর, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম নুর, যুবপার্টি ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক তোফাজ্জল হোসেন রমিজ, উত্তরের সদস্যসচিব শাহিনুর আক্তার শীলা, গাজীপুরের সদস্যসচিব রাজিয়া সুলতানা, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমানুল্লাহ খান রাসেল, মশিউর রহমান মিলু, রিপন মাহমুদ, পল্টন থানা আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সি।

প্রসঙ্গত, মেহেরপুর-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী (ট্রাক প্রতীক) ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রফেসর আব্দুল মান্নান এক সরকারি কর্মকর্তাকে হুঙ্কার দিয়ে বলেছেন, ‘মনে রাখতে হবে আমি শেখ হাসিনার প্রার্থী, আমি ভারতের প্রার্থী।’

গত ১৭ ডিসেম্বর আব্দুল মান্নান মেহেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. অলোক কুমার দাসের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের সময় এসব কথা বলেন মান্নান। তাদের এক মিনিট পাঁচ সেকেন্ডের কথোপকথনের কল রেকর্ড ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

বার্তাবাজার/এম আই