নির্বাচনী প্রচারণার সময় নারীর প্রতি আপত্তিকর ও কটুক্তিমূলক মন্তব্য করায় আচরণ বিধি লঙ্ঘণ হয়েছে জানিয়ে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-২ আসনের জাতীয় পার্টি-জেপি প্রার্থীর স্ত্রী তাসমিমা হোসেনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করেছে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি।

গত ৩ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়াল বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে জেলার নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও জেলার যুগ্ম ও দায়রা জজ কে এম মহিউদ্দিন জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সনের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ১৫৫) এর অনুচ্ছেদ ৭৩, ৩(ক) এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ১১ (ক) ধারার বিধান তাসমিমা হোসেন লঙ্ঘন করেছেন।

ইসিতে রিপোর্ট পাঠানোর আগে জেলা পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য রোকেয়া বেগমের করা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পিরোজপুর-২ আসনের প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্ত্রী তাসমিমা হোসেনকে শোকজ করে নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি। এ বিষয়ে স্বশরীরে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্য দিতে বলা হলেও তিনি বা তার কোন প্রতিনিধি লিখিত বক্তব্য প্রদান করতে আসেন নাই বলেও প্রতিবেদনে করে অনুসন্ধান কমিটি।যা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২ (১৯৭২ সনের রাষ্ট্রপতির আদেশ নং-১৫৫) এর ৭৩, ৩(ক) এবং সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০০৮ এর ১১(ক) গ) ধারার লঙ্ঘন। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান পরবর্তীতে অভিযোগকারী ও বিভিন্ন অডিও ভিডিও এবং পত্রপত্রিকার সংবাদ বিশ্লেষন করে অভিযুক্ত তাসমিমা হোসেনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সিইসি বরাবর সুপারিশ করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ২২ ডিসেম্বর পিরোজপুর-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি-জেপির প্রার্থী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর স্ত্রী তাসমিমা হোসেন জেলা পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য রোকেয়া বেগমের জড়িয়ে আপত্তিকর এই বক্তব্য দেন। যার পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ রোকেয়া বেগম নির্বাচন কমিশন ও জেলা রিটার্নিং কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরে লিখিত অভিযোগ করেন।

ওই চিঠিতে রোকেয়া বেগম জানান, ‘গত ২২ ডিসেম্বর শুক্রবার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার গৌরিপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডে এক নির্বাচনী সভায় জাতীয় পার্টি জেপির প্রার্থীর স্ত্রী বেগম তাসমিমা হোসেন সরাসরি তার নাম উল্লেখ করে বলেন, ‘ভাণ্ডারিয়ার গৌরিপুরের মেয়েদের নিয়ে ঢাকায় বিক্রি করেছে রোকেয়া। এই গ্রামের মেয়েদের নিয়ে পতিতা বানাইছে।’ একজন নারী হয়েও আরেকজন নারীর বিরুদ্ধে বেগম তাসমিমা হোসেনের এমন কুরুচিপূর্ণ, অশালীন, আপত্তিকর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এলাকার সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়েছে। তার এই বেআইনি, মানহানিকর, বানোয়াট বক্তব্যের কারণে আমি আমার পরিবার, আত্মীয়স্বজন, অফিস কলিগ সর্বোপরি এলাকার সাধারণ মানুষের কাছে প্রতিনিয়ত হেয়প্রতিপন্ন হচ্ছি এবং চরম মানসিক ও সামাজিক পীড়ার মধ্য দিয়ে দিন পার করছি। মাঝে মাঝে ইচ্ছে হয় আমি আত্মহত্যা করি।’

বার্তাবাজার/এম আই