দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ ৭ জানুয়ারি। হাতে আর মাত্র ১৫ দিন বাকি থাকলেও কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের ভোটের সমীকরণ কিছুটা বদলে গেছে। উচ্চ আদালতের আদেশে এই ২ টি আসনে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত ২ নেতা। ঈগল প্রতীক নিয়ে তারা ফিরেছেন নির্বাচনী মাঠে।

এই দুই প্রার্থী হলেন, কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু, ঈদগাঁও) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাইকোর্টের আওয়ামী আইনজীবী ফোরামের নেতা ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ এবং কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল বশর।

উভয় জন জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার উচ্চ আদাতের আপিল বিভাগ থেকে প্রার্থীতা ফিরে পেয়েছেন। আদেশ মতে নির্বাচন কমিশনার প্রতীকও বরাদ্দ প্রদান করেছেন। দুই জনই ঈগল প্রতীক নিয়েছেন।

এই দুই প্রার্থীর মধ্যে কক্সবাজার-৩ আসনের প্রার্থী র‌্যারিস্টার মিজান সাঈদ এই আসনটিতে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু ৩০ নভেম্বর মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ দিন ব্যারিস্টার মিজান সাঈদ মনোনয়ন পত্র দাখিলের করতে এসেছিলেন। কিন্তু বিকাল ৫ টা অতিক্রম হওয়ায় বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমলের আপত্তির প্রেক্ষিতে মনোনয়ন পত্রটি গ্রহণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে যান ব্যরিস্টার মিজান সাঈদ। আদালত মনোনয়ন পত্র দাখিলের জন্য আদেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে মনোনয়ন পত্র দাখিলের শেষ সময় অতিবাহিত হওয়ার ১১ দিন পর গত ১২ ডিসেম্বর ব্যারিস্টার মিজান সাঈদের মনোনয়ন পত্র গ্রহণ করেছিলেন রির্টানিং কর্মকর্তা। পরে ১৫ ডিসেম্বর যাচাই বাছাইকালে কক্সবাজার জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান সমর্থন ভোটারদের এক শতাংশ স্বাক্ষরে গড়মিল ও সংশ্লিষ্ট ভোটার স্বাক্ষর প্রদানের বিষয়টি অস্বীকার করায় মনোনয়ন পত্রটি বাতিল করেন। এরপর মিজান সাঈদ আবারও আদালতে যান। বৃহস্পতিবার এক আদেশে প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে প্রতীক বরাদ্দ পান তিনি।

একইভাবে কক্সবাজার-৪ আসনের আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল বশর। তিনি ৩০ নভেম্বর মনোনয়ন পত্র দাখিলের দিন মনোনয়ন পত্র জমাদেন। যাচাই বাছাইকালে ৪ ডিসেম্বর এক শতাংশ ভোটারদের স্বাক্ষর গড়মিল থাকার কথা বলে মনোনয়ন পত্র বাতিল করেন কক্সবাজার জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান। বিষয়টি নিয়ে উচ্চ আদালতের আদেশে প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে প্রতীক বরাদ্ধ পান তিনি।

কক্সবাজার জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান জানান, এ সংক্রান্ত মিজান সাঈদ ও নুরুল বশরের প্রার্থিতা ও প্রতীক বরাদ্ধেও বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের নিদের্শনার কপিটি হাতে পেয়েছেন বলে স্বীকার করেছেন।

কক্সবাজারের ৪ টি সংসদীয় আসনের মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড়িয়েছেন ২৬ জনে। এর মধ্যে কক্সবাজার-১ আসনে ৭ জন, কক্সবাজার-২ আসনে ৬ জন, কক্সবাজার-৩ আসনে ৬ জন এবং কক্সবাজার-৪ আসনে ৭ জন প্রার্থী হল।

কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনে আগের ৫ জন প্রার্থীর সাথে সংযুক্ত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী র‌্যারিস্টার মিজান সাঈদ (ঈগল)। আগের ৫ প্রার্থী হলেন, আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল (নৌকা), জাতীয় পার্টির এডভোকেট মোহাম্মদ তারেক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন (হাতঘড়ি), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) শামীম আহসান ভুলু (কুড়েঁঘর), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মোহাম্মদ ইব্রাহিম (টেলিভিশন)।

এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাইমুম সরওয়ার কমল সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। যার সাথে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুনের সাথে মুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতো। এখন নতুন করে প্রতিদ্বন্দ্বীতায় এসেছেন মিজান সাঈদ। যিনি দীর্ঘদিন ধরে এই আসনে নানাভাবে তৎপরতা অব্যাহত রেখেছেন। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগের গ্রুপিং রাজনীতির কারনে সুবিধাজনক অবস্থানে নিয়ে গেছে মিজান সাঈদকে।

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনে আগে ৬ জন প্রার্থীর সাথে সংযুক্ত হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল বশর (ঈগল)। আগের ৬ জন ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আক্তার (নৌকা), জাতীয় পার্টির নুরুল আমিন চৌধুরী ভুট্টো (লাঙ্গল), ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ফরিদুল আলম (আম), তৃণমূল বিএনপির মুজিবুল হক মুজিব (সোনালী আঁশ), ইসলামী ঐক্যজোটের মোহাম্মদ ওসমান গনি চৌধুরী (মিনার), বাংলাদেশ কংগ্রেসের মোহাম্মদ ইসমাইল (ডাব)।

এই আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়নীত প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির স্ত্রী শাহীন আক্তারের সাথে মুল প্রতিদ্বন্দ্বীই ছিলনা। তা ছাড়া সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদির নিজস্ব জনপ্রিয়তা ভোটের সব হিসাব নিকাশ পাল্টে দেয় বারবার, এবারও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. নুরুল বশর প্রার্থীতা ফিরে পাওয়ায় বদলে গেলে এই সমীকরণ। টেকনাফ উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান সভাপতি নুরুল বশরের রয়েছে নিজস্ব কর্মী বাহিনী।

বার্তাবাজার/এম আই