কুমিল্লার আটটি আসনে আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র ১২ প্রার্থী। তাঁদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এই প্রার্থীদের বেশির ভাগেরই নির্বাচনে জেতার সম্ভাবনা আছে বলে দলীয় নেতা-কর্মীরা মনে করছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কারণে দলে দ্বিধা বিভক্তি দেখা দিয়েছে। আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা ও কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, কুমিল্লার ১১টি আসনে মোট প্রার্থী ৯৩ জন। এর মধ্যে আটটি আসনে আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র আছেন ১২ জন।

কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি ও তিতাস) আসনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মো. আবদুস সবুর। এ আসনে উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসম্পাদক নাঈম হাসান। নাঈম এ আসনের আওয়ামী লীগের সাবেক প্রার্থী প্রয়াত হাসান জামিল সাত্তারের ছেলে। এ আসনে প্রার্থীসংখ্যা আটজন।

কুমিল্লা-২ (হোমনা ও মেঘনা) আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ ওরফে মেরী নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এই আসনে স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী হোমনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আবদুল মজিদ ও মেঘনা উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শফিকুল আলম। নির্বাচনে মজিদ ট্রাক প্রতীক ও শফিকুল ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। মোট প্রার্থী ১০ জন।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুন। এ আসনে উচ্চ আদালত থেকে প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। এ আসনে মাছ প্রতীক নিয়ে সাংবাদিক শরিফুল আলম চৌধুরীসহ নির্বাচন করছেন ১১ জন।

কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নৌকা প্রতীকের রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। এ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করা আবুল কালাম আজাদ ঈগল প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। দেবীদ্বার উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ১২টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা তাঁর সঙ্গে আছেন। পৌরসভা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতারাও তাঁর পক্ষে। এ আসনে প্রার্থী ১২ জন।

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাশেম খান। তিনি অসুস্থ। ঢাকায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী কাঁচি প্রতীক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বুড়িচং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সাজ্জাদ হোসেন ফুলকপি প্রতীক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ জাহের কেটলি, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এহতেশামুল হাসান ভূঁইয়া ট্রাক প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করছেন। এ আসনে প্রার্থী ৯ জন।

কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী টানা তিনবারের সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন। এবার এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ঈগল প্রতীকের প্রার্থী সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা। তিনি বিলুপ্ত কুমিল্লা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন। আঞ্জুম সুলতানা কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আফজল খানের মেয়ে। এ আসনে নির্বাচন করছেন পাঁচজন।

কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য প্রাণ গোপাল দত্ত। এ আসনে উচ্চ আদালত থেকেপ্রার্থিতা ফিরে পেয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ। তিনি এই আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক ডেপুটি সস্পিকার প্রয়াত আলী আশরাফের ছেলে। নির্বাচন করছেন সাতজন।

কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে নৌকার প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক। এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান। এখানে নির্বাচন করছেন আটজন।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম রুহুল আমিন ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. ইউনুস ভূঞা বলেন, ‘নেত্রীর নির্দেশনা মোতাবেক তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এঁদের বাধা দিতে পারি না।’

বার্তাবাজার/এম আই