বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার আগামী ৭ জানুয়ারির ভাগ বাটোয়ারার নির্বাচনের প্রাক্কালে জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনা করছে। শুক্রবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকালে ভার্চুয়াল এক সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলেন তিনি।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করে গণতান্ত্রিক বিশ্বকে বিভ্রান্ত করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনের পূর্ববর্তী সময়ের মতো এবারের ভাগ বাটোয়ারার নির্বাচনের প্রাক্কালে জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করার পরিকল্পনা করছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলিম প্রধান দেশ, এ দেশের মানুষ ধর্মভীরু কিন্তু উগ্র নয়। অসংখ্য ছেলেমেয়ে ইসলাম ধর্মের শিক্ষা গ্রহণের জন্য কওমী, আলীয়া, সুন্নি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। এই পর্যন্ত মাদ্রাসায় কোন ধরণের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ড কিংবা সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী, ছাত্রলীগ সকল বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলো চর দখলের মতো দখল করে রেখেছে।

রিজভী বলেন, ফেসবুকে ভারতবিরোধী লেখার জন্য বুয়েটের ছাত্র আবরারকে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নের নেতাকর্মীদের ওপর বারবার হামলা হয়েছে। অথচ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রকৃত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করছে না। উল্টো পার্শ্ববর্তী দেশের নির্দেশনায় জঙ্গি নাটক মঞ্চস্থ করে সাধারণ জনগণের মৌলিক অধিকার ভোটাধিকার কেড়ে নেয়ার প্রাণপণ চেষ্টায় মরিয়া হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন, মাফিয়া চক্রের ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ব্যস্ত শেখ হাসিনার (প্রধানমন্ত্রী) হাতে জিম্মি জনগণের এই মহাবিপদের সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কিভাবে বাড়ানো যায় সেই কৌশল নিয়ে। প্রশাসন ব্যস্ত পাতানো নির্বাচনের কৌশল নিয়ে। আর জনগণ লড়াই করছে জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে। এর মধ্যে ধেয়ে আসছে প্রলয়ংকরী বিপর্যয়। বেপরোয়া ও নজিরবিহীন আওয়ামী লুটপাটে ধ্বংস হয়ে গেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি। দেশের ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৯ বিলিয়ন ডলারে নীচে।

জনগণকে নির্বাচন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থের বিনিময়ে খরিদ করা ‘কিংস পার্টি’, ভূঁইফোঁড়, তৃণভোজী, ডামি ও খুঁদকুঁড়ো পার্টির কথিত নির্বাচনী নাটক মঞ্চস্থ করার তামাশায় কেউ কোন প্রক্রিয়ায় অংশ নিবেন না। ভোট কেন্দ্রে যাবেন না। ভোট দিবেন না। ‘আমরা আর মামুরা’ মার্কা এই নির্বাচনের প্রার্থী বা তাদের পক্ষভুক্তদের সংশর্ব ত্যাগ করুন। বিএনপি বা অঙ্গ-সংঠনের নেতাকর্মীদের নির্বাচনের সঙ্গে কোনো ভাবে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বার্তা বাজার/জে আই