ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বর্তমান রাজনীতিতে একটি আলোচিত নাম। তিনি একাদশ সংসদে পার্লামেন্টে গিয়ে অগ্নিঝরা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে লাইমলাইটে আসেন। এর পর থেকেই তাকে নিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এমনকি দলের ভেতরও অনেকেই সমালোচনা করেনন—মাঠের রাজনীতি না করেই দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসেছেন ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বুধবার এ প্রসঙ্গে একটি বেসরকারি টেলিভিশনে খোলামেলা কথা বলেছেন বিএনপির আন্তর্জাতিক সহসম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

আপনাকে অনেকেই বলে শুধু বক্তব্য দিয়েই রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এ বিষয়ে কী ব্যাখ্যা দেবেন?

জবাবে ব্যারিস্টার রুমিন বলেন, বর্তমান রাজনীতি দুটো মাঠে ভাগ হয়েছে। প্রথমটি হলো— রাজনীতির মাঠ। যেখানে মিছিল হবে, মিটিং হবে। গরম গরম বক্তব্য হবে। এটি হলো মাঠের রাজনীতি।

আরেকটি হলো— ডিজিটাল মাঠ। এখানে মিডিয়া আছে। যেখানে এক মিনিটের বক্তব্য এক মিলিয়ন মানুষ দেখবে। হয়তো ২৪ ঘণ্টায় ১০ লাখ লোক বক্তব্য শুনবে। এই ১০ লাখ লোককে মাঠের বক্তব্য শুনানোর জন্য কত সময় লাগবে একটাবার চিন্তা করা উচিত। তা ছাড়া খরচ কেমন হবে সেটি চিন্তা করা উচিত। এটা একেবারেই নিম্নটা বললাম। আমার অনেক বক্তব্য কয়েক কোটি ভিউ হয়েছে।

যারা আমার ফিল্ডের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, তাদের উদ্দেশ্যে বলব— লাখ লাখ বা এক কোটি মানুষ আপনারা ফিল্ডে নিয়ে আসেন তো দেখি? এটা কখনো সম্ভব হবে না। এটা অন্য কেউ বুঝুক, আর না বুঝুক সরকার কিন্তু খুব ভালো বোঝে। এ কারণেই সরকার ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট তৈরি করেছে। সে কারণেই সাইবার নিরাপত্তা আইন তৈরি করেছে সরকার। এ জন্যই কথা বলা মানুষগুলো গুম হয়ে যায়।মাঠের রাজনীতির লোককে এ আইনের বেড়াজলে পাওয়া যাবে না।

তিনি আরও যোগ করেন, এ আইনে পাওয়া যাবে, যারা লেখে ও সরকারের বিরুদ্ধে বুদ্ধিবৃত্তিক সমালোচনা করে। মাঠের রাজনীতিতে তেমন বুদ্ধিবৃত্তিক না হলেও চলবে। সেখানে উত্তর-উত্তর, দক্ষিণ-দক্ষিণ বক্তব্য দিয়ে পার পাওয়া যায়। কিন্তু এই মাঠে খেলতে নামলে থাকতে হবে, পড়াশোনা ও নামের আগে টাইটেল থাকলে ভালো হয়। যেমন ডক্টর অথবা ব্যারিস্টার।

রুমিন বলেন, বড় মুশকিল হচ্ছে— বর্তমানে আমাদের রাজনীতিতে কোয়ালিফাইড লোকজন আসতে চায় না। কারণ পলিটিশিয়ানদের আর আগের মতো সম্মানটা নেই।

বার্তাবাজার/এম আই