এবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বল হাতে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন ভারতীয় পেসার মোহাম্মদ শামি। ২৪ উইকেট নিয়ে আসরের সেরা বোলার তিনি। তবে মাঠের পারফর্মেন্সের সঙ্গে অন্য একটি বিষয় নিয়ে আলোচনায় ছিলেন তিনি। রাউন্ড রবিন লীগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫ উইকেট নেয়ার পর মোহাম্মদ শামি হাঁটু মুড়ে মাঠে বসে পড়েছিলেন। এসময় মনে হচ্ছিল মাঠে সেজদা দিতে যাচ্ছেন তিনি। তবে থেমে যান তিনি এবং উঠে পড়েন। ঠিক কী করতে চেয়েছিলেন সে বিষয়ে নিশ্চিত না হলেও অনেকেই দাবি করেন সেজদা দিতে চেয়েছিলেন শামি, কিন্তু ভারতের মাটিতে সেটা করলে বিপাকে পড়ার শঙ্কায় দেননি। এতদিন পর এ বিষয়ে মুখ খুললেন শামি। সেজদা দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন এই ডানহাতি পেসার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আজতাকের একটি অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হয়। বিশ্বকাপে মাত্র ১৪ ম্যাচে ৫০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছানো শামি উত্তর দেওয়া শুরু করেন পালটা প্রশ্ন করে।

তিনি বলেন, ‘আমি যদি সেজদাই দিতে চাইতাম, তাহলে কে আমাকে আটকাতো? আমি তো অন্তত কাউকে প্রার্থনা করা থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করবো না। আমি যদি সেজদা দিতে চাই, তাহলে সেজদাই দেবো। এখানে সমস্যা কোথায়? গর্বের সঙ্গেই বলবো যে আমি একজন মুসলিম। একই সঙ্গে আমি একজন ভারতীয়ও, এটিও গর্ব ভরেই বলবো। কার কী সমস্যা তাতে?’
শামি বলেন, ‘প্রার্থনা করার জন্য যদি কারো অনুমতিই নিতে হয়, তাহলে আমি এই দেশে আছি কেন? এর আগে কি কখনো ৫ উইকেট নেওয়ার পর আমি সেজদা দিয়েছি? অথচ ক্যারিয়ারে ৫ উইকেট তো আর কম নেইনি। আপনিই বলুন, প্রার্থনা করার জন্য আমাকে কোথায় যেতে হবে। আমি সেখানে গিয়েই প্রার্থনা করবো।’

এমনিতে মুসলিম ক্রিকেটার হওয়ায় ভারতে এর আগে একাধিকবার নোংরা ট্রলিংয়ের শিকার হয়েছেন সামি। সে সময় তখনকার অধিনায়ক বিরাট কোহলিসহ ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সমর্থন পান তিনি। এবারের বিশ্বকাপে সর্বাধিক ২৪ উইকেট নেন মোহাম্মদ শামি। শুরুর দিকে ভারতের একাদশে সুযোগ না পাওয়া ৩৩ বছর বয়সী পেসার আসরে খেলেন মাত্রই ৭ ম্যাচ।

বার্তাবাজার/এম আই