ভারতের নতুন পার্লামেন্ট ভবনে লোকসভার শীতকালীন অধিবেশন চলার সময় সেখানে অনুপ্রবেশ করে আতংক ছড়িয়েছে দুই যুবক। ছিটিয়ে দেয় রাসায়নিক স্প্রে। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে ৫ জনকে। কেন এই ঘটনা, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

একই দিন। সময়টাও প্রায় একই। নিরাপত্তা বেস্টনী ভেঙ্গে ভারতের লোকসভায় ভেতরে প্রবেশের ঘটনা আবারো ঘটলো। মাঝে ২২ বছরের ব্যবধান। অনুপ্রবেশের ধরনটিও ভিন্ন।

বুধবার স্থানীয় সময় দুপুর দুইটার দিকে নিরাপত্তা বেস্টনী ভেঙ্গে ভারতের নতুন পার্লামেন্ট ভবনে ঢুকে পড়ে দুই যুবক। পার্লামেন্টের দর্শক সারি থেকে ঝাঁপ দিয়ে তারা লোকসভার মূল অংশে ঢুকে যায়। স্বৈরতন্ত্র চলবে না বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে, চারদিকে রাসায়নিক স্প্রে ছিটিয়ে দেয়। সাদা আর হলুদ ধোয়ায় লোকসভায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

ঘটনার পরপরই লোকসভার অধিবেশন মুলতবি করা হয়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা জানিয়েছেন, ঐ ধোঁয়া কোনো বিষাক্ত গ্যাস নয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এটি সাধারণ ধোঁয়া এবং আতংক তৈরির জন্য দেয়া হয়েছিল।

অবশ্য, বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনার আগেই অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশ।এছাড়া পার্লামেন্ট ভবনের বাইরেও ঘটেছে একই কাণ্ড। সেখান থেকেও তিন’জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের একজন নারী। এছাড়া, আরো একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ছয়জনই এক গোষ্ঠীর কি না, তাদের উদ্দেশ্য কি? তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এ ঘটনার পর চলতি বছরের মে-তে উদ্বোধন করা নতুন এই পার্লামেন্ট ভবনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

২২ বছর আগে, ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর, ঠিক এই দিনে পুরনো পার্লামেন্ট ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ে ৫ সশস্ত্র ব্যক্তি। এলোপাথাড়ি গুলি চালালে প্রাণ হারিয়েছিলেন দিল্লি পুলিশের ছয় সদস্য, দুই নিরাপত্তা কর্মী ও এক মালি। নিরাপত্তা রক্ষীদের পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছিলো পাঁচ হামলাকারীও। অধিবেশন না চলায় লোকসভার সদস্যদের কোন ক্ষতি হয়নি।

ঐ হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন, জইশ-ই-মোহম্মদ এবং লস্কর-ই-তৈয়বা জড়িত ছিলো বলে অভিযোগ করেছিলো ভারত।

বার্তা বাজার/জে আই