নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী) আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মোরশেদ আলমকে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪৯২ জন সুবিধাভোগীর কার্ড জব্দ করার অভিযোগ উঠেছে সোনাইমুড়ী উপজেলার অম্বরনগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দুলুর বিরুদ্ধে। কার্ডগুলো স্থানীয় মেম্বারদের মাধ্যমে সংগ্রহ করে নিজের কাছে রেখেছেন বলে তিনি স্বীকার করেছেন।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নোয়াখালী-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আতাউর রহমান ভূঁইয়া।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ আসনে মোরশেদ আলম একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। তার পক্ষে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ৫নং অম্বরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দুলু এবং ডিলার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন সরকার প্রদত্ত খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীদের কার্ড জব্দ করে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট না দিলে কার্ড বাতিল করার হুমকি দিয়ে নির্বাচনকে প্রভাবিত করছেন। অম্বরনগর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির সুবিধাভোগীরা তাদের নিকট জিম্মি হয়ে পড়েছে। যা নির্বাচনী আচরণবিধি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি বা পরিচালনায় বাধাগ্রস্ত করা তথা নির্বাচনী অপরাধ। এমতাবস্থায়, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে যথাযথ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।

স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সেনবাগের ৯টি ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের বারোগাঁও ও নাটেশ্বর ইউনিয়ন নোয়াখালী-২ আসনের অন্তর্ভুক্ত। আসনটিতে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোরশেদ আলম। এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন সাতজন। নির্বাচন ঘিরে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর ভোট নিশ্চিত করতে আসনটির সোনাইমুড়ী উপজেলার অম্বরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দুলু তার ৯টি ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যদের (মেম্বার) মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪৯২টি কার্ড জব্দ করে নিজের কাছে রেখেছেন।

কার্ড জব্দের বিষয়টি স্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন দুলু। তিনি বলেন, প্রত্যেক ওয়ার্ডের মেম্বারের মাধ্যমে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ৪৯২ জন সুবিধাভোগীর কার্ড সংগ্রহ করে আমার কাছে রেখেছি। কার্ডধারীরা সরকারের দেওয়া ১০ টাকা মূল্যে ৩০ কেজি করে চাল পেয়ে থাকেন। গত সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে তারা চাল পেয়েছিলেন। আগামী এপ্রিল এবং মে মাসে আবারও পাবেন। যেহেতু তারা সরকারের সুবিধা গ্রহণ করেন সেহেতু তাদের নৌকায় ভোট দিতে হবে। নৌকার প্রার্থীকে জয়ী করতে আমরা এমপি সাহেবের (মোরশেদ আলম) সঙ্গে বৈঠক করেছি। ওয়ার্ডভিত্তিক কার্ডধারীদের সঙ্গেও বৈঠক করব। যারা নৌকার প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেবেন আমরা তাদের কার্ড ফিরিয়ে দেব। এসব বিষয় এমপি সাহেবও জানেন।

কার্ডধারী হারুন অর রশিদ, আবদুল করিম ও আবুল হাশেম বলেন, মেম্বাররা এসে আমাদের কাছ থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির কার্ড নিয়ে গেছেন। বলেছিলেন, চেয়ারম্যান নিতে বলছেন, তাই তারা নিয়ে গেছেন। চাল না আসা পর্যন্ত কার্ড চেয়ারম্যানের কাছে জমা থাকবে বলে জানান তারা।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা দেওয়ান মাহবুবুর রহমান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর এই অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তবে একজন চেয়ারম্যান এভাবে সরকারি সুবিধাভোগী কারও কার্ড জব্দ করতে পারেন না। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বার্তা বাজার/জে আই