পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশের ওপর নতুন করে কোনো বিধিনিষেধ বা নিষেধাজ্ঞা আসার সম্ভাবনা নেই। কারণ র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বেড়েছে। এ ছাড়া নিষেধাজ্ঞার পর থেকে প্রতিটি ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করা হয়েছে এবং ওয়াশিংটনকে তা জানানো হয়েছে।

সোমবার (১১ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ দাবি করেন।

মানবাধিকার ও নির্বাচন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দূরত্ব অনেকটাই কেটে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ওয়াদা করেছিল বাংলাদেশে এমন কিছু করবে না, যা একটি দলের পক্ষে যায় বা অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তারা কথা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে।

র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে শাহরিয়ার আলম বলেন, সরকারের থেকে নেওয়া পদক্ষেপগুলোও তাদের জানানো হয়েছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা তো দূরের কথা, র‌্যাবের ওপর যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, আমরা প্রত্যাশা করি এটি উঠে যাবে। বাংলাদেশ এ নিয়ে আইনি প্রক্রিয়াতে রয়েছে।

বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার সম্ভাবনা নেই জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আসার কোনো সম্ভাবনা নেই। দুই দেশের পারস্পারিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। ব্যবসা কারও দয়ায় চলে না। বাংলাদেশ প্রতিযোগী বাজার গড়ে তুলেছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করতে টিকফা বৈঠকের বাইরেও আরও বৈঠক করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০২৫ সালের মধ্যে শ্রম বিষয়ে সব উদ্বেগ দূর করবে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের লবির মতো টেক্সটাইল লবিও বেশি প্রভাবশালী। আর বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রের তুলার অন্যতম বড় ক্রেতা। এখানেও পারস্পারিক নির্ভরশীলতা রয়েছে। অতীতে কিছু ভুল বোঝাবুঝি ছিল, ভবিষ্যৎ বলে দেবে কিছু ভুল বোঝাবুঝি রয়ে গেছে কি না। আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক কিছু বোঝাতে সক্ষম হয়েছি, আগে যে চেষ্টা করানো হয়নি। করোনার সময়ে যোগাযোগের অভাবে কিছু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হতে পারে।

বার্তা বাজার/জে আই