গুম-খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যা, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় ভিন্নমতের মানুষকে গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানীতে র‍্যালি ও সমাবেশ করেছে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে আজ রোববার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে বিজয়নগর পানিরট্যাংকির সামনে সমাবেশ শেষে র‍্যালি বের করে দলটি। এরপর পল্টন মোড়, প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট মোড়ের কদম ফোয়ারা, দৈনিক বাংলা, ফকিরাপুল, বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনের সড়ক ও নাইটিংগেল মোড়ে ঘুরে পানিরট্যাংকির মোড়ে এসে শেষ হয়।

র‍্যালিপূর্ব সমাবেশে গণঅধিকার পরিষদের একাংশের সভাপতি ও ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, দেশে গণতন্ত্র-আইনের শাসন না থাকলে মানবাধিকার থাকে না। দেশে মানবাধিকার নেই। তাই মানবাধিকার দিবসে আজকে আমাদেরকে রাস্তায় নামতে হয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে একটা স্বাধীন ভূখণ্ড পেলেও স্বাধীনতার মূল উদ্দেশ্য রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক মুক্তি অর্জন করতে পারিনি।

তিনি বলেন, পুলিশ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে হয়রানি করছে, মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে। গতরাতে আমাদের নারায়ণগঞ্জের এক নেতাকে না পেয়ে তার ভাইকে গ্রেপ্তার করেছিল। যাকে আটক করে সে একজন অসুস্থ মানুষ, আজকে তার অপারেশন। মোটা অংকের টাকা নিয়ে তারপর ছাড়ছে। এর আগে হাতিরঝিল থানায় আমাদের গণঅধিকার পরিষদ নেতা উজ্জ্বলকে আটক করে। আমি ফোন দিলে ওসি বলেন- ভাই, আপনারা মিছিল মিটিং করেন, ছবি তুলে, ভিডিও করে বিভিন্ন জায়গায় পাঠান। আমাদেরও কিছু করে উপরে দেখাতে হয়। এভাবে প্রত্যেক থানায় গ্রেপ্তারের টার্গেট দেওয়া হয়, মামলার টার্গেট দেওয়া হয়। পুলিশ মৃত মানুষকে দৌঁড়াতে দেখে, মৃত মানুষকে মামলার আসামি করে। পুলিশ যে এভাবে মিথ্যা মামলা দিচ্ছে, হয়রানি করছে- সেটা পরিষ্কার।

নুর বলেন, এই আন্দোলন শুধু বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদের আন্দোলন নয়। এটা গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন। সকলকে এই আন্দোলনে শরিক হতে হবে। জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আগামী ৭ জানুয়ারির প্রহসনের নির্বাচনকে প্রতিহত করতে হবে। প্রয়োজনে প্রতিটি এলাকায় গণপ্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খাঁন বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জনগণ রাজপথে নেমেছে। গতকাল (শনিবার) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, আজকে (রোববার) বিএনপি-জামায়াত নাশকতা করবে। কিন্তু কোথাও নাশকতা হয়নি। বরং সকালে জামায়াতের মানববন্ধনে লাঠিচার্জ ও গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সর্বত্র সরকার জামায়াত-জুজু সৃষ্টি করেছে। অথচ ১৯৯৬ সালে জামায়াতকে সাথে নিয়েই আওয়ামী লীগ আন্দোলন করেছিল।

গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন- দলটির উচ্চতর পরিষদের সদস্য শাকিল উজ্জামান, ফাতিমা তাসনিম, সরকার নুরে এরশাদ সিদ্দিকী, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, মশিউর রহমান, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট খালিদ হাসান, আইন সম্পাদক এডভোকেট শওকত, যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মামুন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম আদীব, পেশাজীবী অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সম্পদ, গণঅধিকার পরিষদ মহানগর দক্ষিণের সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম শাকিল, উত্তরের সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।

বার্তাবাজার/এম আই