আওয়ামী লীগ সরকার গত ১৫ বছরে দেশের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানি।

তিনি বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি বিরোধী দলবিহীন প্রহসনের নির্বাচন দেশবাসী রুখে দেবে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, অবৈধ সংসদ ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় দেশের জনগণ যেভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে, তাতে সরকারের রক্ষা হবে না। স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ জনসমর্থন হারিয়ে দেউলিয়া হয়ে গেছে।

আজ শুক্রবার বাদ জুমা রাজধানীতে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন কর্তৃক একতরফা নির্বাচনী তপশিল বাতিল, সকল রাজবন্দিদের মুক্তি বর্তমান সংসদ ভেঙে দিয়ে জাতীয় সরকারের অধীনে সংখ্যানুপাতিক (পিআর) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি শেখ ফজলে বারী মাসউদের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কেএম আতিকুর রহমান, প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক আহমদ আবদুল কাইয়ূম, মোহাম্মদ নেছার উদ্দিন, আরিফুল ইসলাম, নূরুল ইসলাম নাঈম, ডা. শহিদুল ইসলাম, নুরুজ্জামান সরকার, মুফতী ফরিদুল ইসলাম, মাওলানা কেএম শরিয়াতুল্লাহ, হাফেজ মাকসুদর রহমান ও মুফতী মাছউদুর রহমান। আগামী ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় জাতীয় পতাকা র‌্যালি করার কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

মোসাদ্দেক বিল্লাহ মাদানী বলেন, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে নির্বাচন করলে এটা দেশবাসী মানবে না। প্রহসনের নির্বাচনের আয়োজন থেকে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে ফিরে আসতে হবে। তিনি পাতানোর নির্বাচনে কেউ কোনো সহযোগিতা করা থেকে এবং ভোটদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

জাতীয় পার্টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে গৃহপালিত বিরোধী দল বানিয়েছে। জাতীয় পার্টি জাতির জন্য একটা বিষফোঁড়া। ২০১৪ সালের পর আবারও ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন করে বৈধতা দিয়েছে। ওরা অংশীদার, মন্ত্রী হয়, তারা বিরোধী দল হয় কীভাবে।

তিনি বলেন, তৃণমূল বিএনপি আওয়ামী লীগের তল্পিবাহক। টাকা ও সিট ছেড়ে আওয়ামী লীগ তাদের নিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন মানুষের সঙ্গে আছে, প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত করবে। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তপশিল বাতিল করতে হবে। সবার সঙ্গে আলোচনা করে স্বচ্ছ নির্বাচন করতে হবে। ২০১৪ ও ২০১৮ এর মত নির্বাচন আমরা চাই না। ৭ জানুয়ারির নির্বাচন থেকে সরকারকে ব্যাক করানোর জন্য ইসলামী আন্দোলন রাজপথে নেমেছে। সরকারকে বলব ফিরে আসুন।

অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, দেশের সম্পদ নষ্ট করে সরকার প্রহসনের নির্বাচন করছে। পছন্দের প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করে দিলে অন্তত দেশের সম্পদ নষ্ট হতো না। পাতানোর নির্বাচনে খরচকৃত টাকার হিসেব জনগণ নেবে। তিনি শিক্ষা কারিকুলামের মাধ্যমে প্রজন্মকে মেধাশূণ্য করার চক্রান্ত থেকে সরকারকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, নতুন শিক্ষা কারিকুলামের বই বিতরণ করা যাবে না। কোনো ছাত্র-ছাত্রী এই বই পড়বে না। তিনি বিতর্কিত বই ছাপাতে যে টাকা খরচ হয়েছে, এই টাকা শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনিকে দিতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে শুরু হয়ে পল্টন মোড়, বিজয়নগর পানির ট্রাংকি হয়ে পুনরায় বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে এসে সমাপ্ত হয়।

বার্তাবাজার/এম আই