৩৯ বছর আগে কুমিল্লা পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আ ক ম বাহাউদ্দীনের মুখোমুখি হন আফজল খান। তখন আফজল খান শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাহাউদ্দীন সাধারণ সম্পাদক। ১০ বছর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাহাউদ্দীনের মুখোমুখি হন স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল খানের বড় ছেলে মাসুদ পারভেজ খান (ইমরান)।

এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাহাউদ্দীনের মুখোমুখি আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা। গতকাল সোমবার মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে এই দুই প্রার্থীর প্রার্থিতাও বৈধ হয়। আগামী ৭ জানুয়ারি এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

এ নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সিটি করপোরেশন ও সেনানিবাস এলাকা) আসনে মোট প্রার্থী চারজন। তাঁরা হলেন, আওয়ামী লীগের মনোনীত বাহাউদ্দীন, জাতীয় পার্টির এয়ার আহমেদ সেলিম, জাকের পার্টির মো. আবুল হোসেন মজুমদার।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪ সালে কুমিল্লা পৌরসভা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন নিয়ে প্রার্থী হন আফজল খান। ওই নির্বাচনে প্রার্থী হন শহর আওয়ামী লীগের তত্কালীন সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন। নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন বাহাউদ্দীন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৬ (আদর্শ সদর, সিটি করপোরেশন ও সেনানিবাস এলাকা) আসনে আনারস প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন মাসুদ পারভেজ খান। এতে তিনি ৩৮ হাজার ২৯৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হন। মাসুদ পারভেজ ২০২২ সালের ১৫ জুন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেন। পরে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নেন। চলতি বছরের ৬ মার্চ মাসুদ পারভেজ মারা যান।

২০২১ সালের ১৬ নভেম্বর মারা যান আফজল খান। আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবার বাহাউদ্দীনের প্রতিদ্বন্দ্বী আফজল খানের মেয়ে আঞ্জুম সুলতানা। আঞ্জুম সুলতানা সংরক্ষিত আসনের মহিলা সংসদ সদস্য, মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান উপদেষ্টা ও একই শাখার আগের কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। বাহাউদ্দীন মহানগর আওয়ামী লীগের টানা দুইবারের সভাপতি। টানা তিনবারের সংসদ সদস্য। এ ছাড়া তিনি দুইবার বিলুপ্ত কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় চার দশক ধরে কুমিল্লায় খান পরিবারের সঙ্গে বাহাউদ্দীনের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব। বাবা ও ভাইকে ছাড়া আঞ্জুম সুলতানা এবার প্রথমবারের মতো নির্বাচন করছেন। এর আগে আঞ্জুম সুলতানা বিলুপ্ত কুমিল্লা পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০১৭ সালের ৩০ মার্চের কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সামান্য ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সফিকুল ইসলাম শিকদার বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আঞ্জুম সুলতানা জিতবে।

জানতে চাইলে কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নুরুর রহমান বলেন, বাহাউদ্দীনের সঙ্গে কুমিল্লার মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। ভোটের রাজনীতিতে ও সাংগঠনিকভাবে তিনি দক্ষ। চার দশক ধরে তিনি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। এবারও তিনি জয়ী হবেন। সারা জীবন তিনি ভোট করে জয়ী হয়েছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বা ভোট ছাড়া তিনি কখনো জয়ী হননি। ১৯৭৩ সালের পর বাহাউদ্দীনের হাত ধরেই নৌকা এই আসনে পরপর তিনবার জয়ী হয়। খান পরিবারের সঙ্গে ভোটের লড়াইয়ে তিনি সব সময় জিতেছেন। এবারও জিতবেন।

আঞ্জুম সুলতানা বলেন, এই নির্বাচন দলীয়ভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত। কুমিল্লার মানুষের আগ্রহে প্রার্থী হয়েছি। আশা করি নির্বাচনে জয়ী হব।

বাহাউদ্দীন বাহার বলেন, কুমিল্লার মানুষ আমাকে ১৯৮৪ সালে তরুণ বয়সে কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান বানিয়েছেন। আমি কুমিল্লার মানুষের জন্য সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছি। আমার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীরা ১৯৮৪ সালে পারেনি, ২০১৪ সালেও পারেনি। এবারও পারবে না। কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। শেখ হাসিনাকে এবারও এই আসন উপহার দেব।

বার্তাবাজার/এম আই