লেন, যখন নির্বাচন কমিশন প্রশাসনে এবং পুলিশের রদবদল শুরু করেছে তখন নিজেদের কর্মকর্তাদেরও শুদ্ধি অভিযান চালানো প্রয়োজন। বিতর্কিত ব্যক্তিদের দিয়ে নির্বাচন সম্পন্ন করলে তা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। আব্দুল হান্নানের বিষয়ে ঢাকায় সরাসরি কথা বলবেন বলেও জানান তিনি।

অবশ্য নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযোগ ওঠার পর গত দেড় বছরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে ঘটনাটি বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছিল। তদন্তে তেমন কিছু প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে শুধু বদলি করা হয় অন্য থানায়। রাজশাহী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহিনুর ইসলাম বলেন, মে মাস থেকে তিনি রাজশাহী জেলা কার্যালয়ে থানা নির্বাচন কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শাস্তি প্রদান করা হয়নি। ফলে আসন্ন নির্বাচনে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে তার দায়িত্ব পালনে বাধা নেই।

এ বিষয় কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেন, আমি বর্তমান কর্মস্থলে ২০২৩ সালের ১৩ মার্চ যোগদান করি। এ সময় বরখাস্ত হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগটি ভুয়া ছিল। অভিযোগের নিষ্পত্তি হয়েছে বিধায়ই তো আমাকে নির্বাচন কমিশন দায়িত্ব প্রদান করেছে।

২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে বালারহাট ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান বলেছিলেন নির্বাচনে কম ভোট পেলেও ফল ঘোষণার সময় তাকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে। এ জন্য নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে ওই ইউপি সদস্যের সাড়ে চার লাখ টাকার চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী তিন লাখ টাকা তাকে প্রদান করেন ইউপি সদস্য প্রার্থী রফিকুল ইসলাম।

নির্বাচন কর্মকর্তার সঙ্গে ওই ইউপি সদস্যের ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তখন তোলপাড় শুরু হয়। ভোটগ্রহণের আগে প্রার্থী ও নির্বাচন কর্মকর্তার এমন গোপন চুক্তির অডিও ফাঁস হওয়ায় নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে ওই ওয়ার্ডের অন্য প্রার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে নির্বাচনের আগেই মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে কুড়িগ্রাম নির্বাচন অফিসে সংযুক্ত করা হয়। তার স্থলে পীরগাছা নির্বাচন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান শুরু থেকেই বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিলেন।

এ ঘটনায় নির্বাচন কমিশন একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল হান্নানকে বরখাস্ত করা হয়।

বার্তা বাজার/জে আই