একতরফা তফসিল ঘোষণা, সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার গঠনের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মা’ছুম এক বিবৃতিতে জানান, নির্বাচন কমিশন একতরফা গণবিরোধী তফসিল ঘোষণা করে দেশকে রাজনৈতিক সংকটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। দেশের বৃহৎ রাজনৈতিক দলসমূহ একদলীয় নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আজ্ঞাবহ নির্বাচন কমিশন জনগণের সেন্টিমেন্টকে অগ্রাহ্য করে ফরমায়েসি তফসিল ঘোষণা করে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন মূলত দেশে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশের জনগণ, আন্তর্জাতিক মহল এবং গণতান্ত্রিক বিশ্বের সমালোচনার মুখে আওয়ামী লীগ প্রহসনের নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক হিসেবে দেখানোর জন্য ডামি প্রার্থী দিয়ে একটি নতুন নাটকের আয়োজন করতে যাচ্ছে। নিজেদের দলীয় লোকদেরকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়ে এবং কতিপয় বিশ্বাসঘাতক ও স্বার্থপর লোক দ্বারা পাতানো নির্বাচনের চক্রান্ত করছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে এটা আওয়ামী লীগের দেউলিয়াত্বই প্রমাণ করে।

এ টি এম মা’ছুম বলেন, নির্বাচনের পূর্ব মুহূর্তে অত্যন্ত সুপরিকিল্পতভাবে শুনানি ছাড়াই জামায়াতের নিবন্ধন মামলা সংক্রান্ত আপিলটি খারিজ করে দিয়ে নির্বাচন ও গণতন্ত্র বিকাশের পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। আমরা ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সকল অপরাজনীতির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, সরকার তার একক নির্বাচনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য সারাদেশে গণগ্রেপ্তার ও পুলিশি হয়রানি অব্যাহত রেখেছে। দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে উদ্ধারের লক্ষ্যে একতরফা তফসিল ঘোষণা, সরকারের পদত্যাগ, নির্বাচনকালীন কেয়ারটেকার সরকার গঠন, সকল রাজবন্দি ও ওলামা-মাশায়েখের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্য মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসার দাবিতে আগামী ৩ ডিসেম্বর ভোর ৬টা থেকে ৫ ডিসেম্বর মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হবে।

ঘোষিত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সফল করে আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্য জামায়াতে ইসলামীর সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং সংগ্রামী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি।

বার্তাবাজার/এম আই