লবনাক্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হওয়ায় পড়ে আছে আশাশুনি উপজেলার খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার বিঘার আমন ধানের জমি। এক ফসলি এ এলাকায় খাদ্য সংকটে পড়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য বাড়ি ছাড়ছেন স্থানীয় মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে দরিদ্র পরিবারের মানুষ। পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধানের জন্য ভুক্তভোগী অধিবাসীরা বিভিন্ন দরবারে মাথা ঠুকছেন কিন্তু মেলেনি কার্যকরি কোন ফল।

এতে পানিবন্দী মানুষের ভেতর ক্ষোভের সঞ্চার হতে দেখা গেছে। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন তবুও এ দুটি ইউনিয়নের হাজার হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জনবান্ধব কোন জননেতাকে না পেয়ে তারা হতাশা ব্যক্ত করেছেন। পরবর্তী ফসল নির্বিঘ্নে চাষাবাদ করতে চাই পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী ব্যবস্থা। তাই সংশ্লিষ্ট এলাকার ভুক্তভোগী জনগণ পশ্চিম ফটিকখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত হয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করে। সেখানে খাজরা ইউনিয়নের ফটিক খালি, গজুয়াকাটি, খালিয়া, পশ্চিম খাজরা, দেয়াবর্ষিয়া, পিরোজপুর, রাউতাড়া, কাপসন্ডা ও বড়দল ইউনিয়নের বাইনতলা, পাঁচপোতা সহ বিভিন্ন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে স্থানীয় ইউপি সদস্য রামপদ সানা জানান, গত আষাঢ় মাস থেকে অতিবৃষ্টি ও লবণ পানির ঘের মালিকদের নিষ্কাশিত লবণাক্ত পানিতে আমরা ডুবে আছি। সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি কালকি স্লুইস গেট দিয়ে এতদিন নিষ্কাশিত হতো। কিন্তু বড়দলের কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা হারিয়ে স্লুইস গেটের মুখে অতিরিক্ত পলি পড়ে গেট দিয়ে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কপোতাক্ষ নদ খনন কাজ চলমান থাকায় পানি নিষ্কাশনের এ পথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে বর্তমান চেয়ারম্যান পলি অপসারণের কাজ করলে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আমাদের পরবর্তী ফসল উৎপাদন ব্যহত হতে পারে। তার বিকল্প ব্যবস্থা নেয়া এখন সময়ের দাবি। বর্তমানে অধিকাংশ পরিবারের ঘরে চাল নেই তাই পরবর্তী ফসল উৎপাদন না হওয়া পর্যন্ত সরকারিভাবে রেশনের সুবিধা দিলে সবাই উপকৃত হবে।
গ্রাম চিকিৎসক নৃপেন্দ্র নাথ মন্ডল জানান, স্থায়ী সমাধানের জন্য খোলপেটুয়া নদীর চেউটিয়া খালের বাঁধে ৪ ব্যান্ড স্লুইস গেট নির্মাণ করতে হবে। যতদিন না হবে ততদিন পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে চেউটিয়া খালের নদী সংলগ্ন পবনা খালের নেট পাটা অপসারণ করে আনুলিয়া ইউনিয়নের মনিপুর গ্রামের হরি মর্দন গেট পর্যন্ত উন্মুক্ত করতে হবে। এছাড়া দেয়াবর্ষিয়া খাল, পুকুর খাল ও ঝোপের খালের নেট পাটা অপসারণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে উন্মুক্ত করলে ফটিক খালি বিলের পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব হবে।

প্রধান শিক্ষক কিঙ্কর মণ্ডল জানান, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের জন্য এখনই কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরী। জলাবদ্ধতার কারণে এ বছর ১০ হাজার বিঘা জমির মালিকরা ধান চাষাবাদ করতে না পেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও এক বছর যদি চাষাবাদ না করতে পারে তাহলে বিকল্প কর্মসংস্থানের জন্য সবাইকে এলাকা ছাড়তে হবে। খোলপেটুয়া নদীর চেউটিয়া খালের বাঁধের স্লুইস গেট নির্মাণ করা হলে খাজরা ও বড়দল ইউনিয়নের শত মানুষ জলাবদ্ধতা মুক্ত হবে। গত ২৫ অক্টোবর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর খোলপেটুয়া নদীর চেউটিয়া খালের বাঁধে স্লুইস গেট নির্মাণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেটা যদি অনুমোদন দেয়া হয় তবে তা দুই ইউনিয়নের মানুষের জন্য আশির্বাদ হয়ে দেখা দেবে।

বিজন সানা (আমিন) জানান, জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ না করতে পেরে আমরা চরম দুর্ভোগে আছি। রাস্তা কার্পেটিং করবে বলে বিগত এক বছর ধরে মাটি খুঁড়ে ফেলে রেখেছে। কোন যানবাহন চলাচল করতে পারে না। কোন মানুষ অসুস্থ হলে তাকে ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া যায় না। দুর্ভোগ থেকে উত্তরণের জন্য চেউটিয়া বাঁধে স্লুইস গেট নির্মাণ ও বর্ষা মৌসুমে সংশ্লিষ্ট খালের নেট পাটা অপসারণ করে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত শত শত পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক স্বাস্থ্যকর্মী অরুণ কুমার রায়, সমাজ সেবক স্বপন রায়, জমির মালিক মুজিবর সরদার, হাসেম গাজী, রব্বানী সরদার, পরিতোষ মন্ডল, কমলেশ সরদার, রুহুল গাজী সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

বার্তা বাজার/জে আই