সমতল অঞ্চলের মাটিতে কমলার চাষ এক সময় ছিল মানুষের কাছে কল্পনার মত। এই মাটিতে অনেকে শখের বসে কমলার গাছ রোপন করলেও, ফলের সাইজ এবং স্বাদ আশানুরূপ না হওয়ায় একসময় কেটে ফেলেছেন অধিকাংশ মানুষ।

তবে প্রথমবারের মত দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় কমলা চাষে সফলতা পেয়েছেন একজন উদ্দ্যোক্তা। স্থানীয় বেলে দোআঁশ মাটিতেই চাষ হয়েছে সাত জাতের কমলা।

পৌর এলাকার নুরজাহানপুর গ্রামের বিসমিল্লাহ নার্সারীতে চাষ করা হয়েছে দার্জিলিং, ম্যান্ডারিন, চায়না, পাকিস্থানী, ছাতকি, নেপালী ও
নাগপুরি জাতের কমলা। বাগানটিতে প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি কমলার গাছ রয়েছে। এসবের অধিকাংশ গাছে গড়ে ৩০ থেকে ৪০ কেজি
পর্যন্ত কমলার ফলন হয়েছে বলে দাবি বাগান মালিকের।। যা নজর কাড়ছে সকলের। স্থানীয় মাটিতে কমলা চাষে সফলতার কথা শুনে অনেকেই সেখানো আসছেন কমলা স্বাদ গ্রহণ করতে। সফল এই কমলা চাষী জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের নুরজাহানপুর গ্রামের বাসিন্দা। পেশায় তিনি একজন নার্সারী ব্যবসায়ী। তিন বছর আগে বানিজ্যিক চাষের জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে তিনি ভারতে ঘুরতে গিয়ে সেখান থেকে দার্জিলিং ও ম্যান্ডারিন জাতের কমলার বেশ কয়েকটি চারা সংগ্রহ করে দেশে নিয়ে আসেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অন্যান্য জাতের কমলার চারা সংগ্রহ করেন তিনি। চলতি মৌসুমে তার বাগানের সব কয়টি জাতের গাছেই দেখা মিলেছে কমলার। বাগানের গাছে ঝুলে থাকা এসব কমলার সাইজ বাজারে কিনতে পাওয়া কমলার মতই।

বাগান মালিকের সাথে কথা বলে জানা যায়, শুরুর দিকে এক একর জমির উপর সাতটি জাতের কমলার পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেছিলেন তিনি। সব গাছে ফল আসলেও, স্বাদ ও মানের দিক থেকে সফলতা পেয়েছেন দার্জিলিং, ম্যান্ডারিন এবং নাগপুরি জাতের কমলায়। আগামীতে শুধুমাত্র এই তিনটি জাতের কমলা নিয়ে বৃহৎ কমলার বাগান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে তার। পাশাপাশি এইসব জাতের কমলার বানিজ্যিক চারা তৈরি করা হচ্ছে বাগানটিতে।

এছাড়াও মূল কমলার বাগান এবং চারা বাগানে কর্মসংস্থান হয়েছে ৭ জন কৃষি শ্রমিকের। বাগান ঘুরে দেখা যায়, ১০ থেকে ১২ ফিট উচ্চতার বেশ কয়েকটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে রঙিন দার্জিলিং ও ম্যান্ডারিন জাতের কমলা। এছাড়াও ১০ থেকে ১৫ ফিট উচ্চতার আরো বেশ কয়েকটি গাছে ঝুলছে পাকিস্থানী ও চায়না জাতের কমলা। তবে এসব কমলা রং সবুজ মিশ্রিত। বাগানের অপর প্রান্তে সাড়িবদ্ধ ভাবে তৈরি করা হয়েছে বিভিন্ন জাতের কমলার চারা। এসব চারা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যে। পুরো বাগান ছড়িয়ে ছিটিয়ে কাজ করছেন ৫ জন কৃষি শ্রমিক।

বাগানটির মালিক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘এই ৭ জাতের কমলা স্বাদ ও মান নিয়ে দীর্ঘ গবেষণা ও পরীক্ষানিরীক্ষা শেষে তিনটি জাতে সফলতা পেয়েছি। আমার লক্ষ্য ছিল বাজারে কিনতে পাওয়া কমলার চেয়ে আরো উন্নত কমলার চাষ। আমার বাগান দেখে অনেকেই ইচ্ছা পোষন করছেন কমলার বাগান তৈরিতে। আমি তাদেরকে চারা সরবরাহ করছি। পাশাপাশি আমার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছি। স্থানীয় মাটিতে কমলা চাষ করার মধ্য দিয়ে দেশের চাহিদা মেটানোই আমার উদ্দেশ্য।’

এদিকে ঘোড়াঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রফিকুজ্জামান বলেন,‘নিয়ম মেনে এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মাটিতেও কমলা চাষে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। কমলা চাষী জাহাঙ্গীর আলম তার একটি উদাহরণ মাত্র। আমরা কমলা চাষে কৃষকদেরকে উদ্বুদ্ধ করছি।

পাশাপাশি সব ধরণের সহযোগীতা ও পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছি।’

বার্তা বাজার/জে আই