সাতক্ষীরা পৌরসভার চার কাউন্সিলরের লুটপাট ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন পৌর পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সাম্প্রতি সাতক্ষীরা পৌরসভার মেয়র পদ শূন্য হওয়ায় এই মাত্রা বহুগুণে বৃদ্ধি পয়েছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরা পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন কালু পৌরসভার পলাশপোল মৌজার ০১ খাস খতিয়ানভুক্ত ১২৮০,৪২৩৮,৮২৩১ সাবেক দাগ ও বর্তমান ১৪০০ দাগের রইচপুর এলাকার ৫৮০ বিঘা জমি ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ দখলে রেখেছেন। কালুর অন্যতম সহযোগী রুহুল কুদ্দুস ৭৫ বিঘা জমিতে মাছের ঘের তৈরি করেছেন। অন্য জমি বার্ষিক ১০ হাজার টাকা হারি প্রদান করে সরকারি অর্থ লোপাট করছেন। কাউন্সিলর কালুর এই কর্মকান্ডে ভূমি অফিস ও রাজস্ব শাখার কতিপয় কর্মচারী জড়িত আছেন বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা ও ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শফিকুল ইসলাম বাবু পৌর সভায় নামে-বেনামে পৌরসভার বিভিন্ন কাজের ঠিকাদারি করছেন। জোড়াতালি দিয়ে করা এসব কাজের মান ভালো না হলেও সময় মতো নিচ্ছেন বিল। এছাড়া তারা ৪০টি মামলার চার্জসিটভুক্ত আসামি। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য কারণে উপ-পরিচালক স্থানীয় সরকার সাতক্ষীরা তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এর মধ্যে আইনুল ইসলাম নান্টা খুনের মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি।

সাতক্ষীরা সদর থানা সূত্রে জানা যায়, জি.আর ২৮৮/১৮ নং মামলার ০৪ নং আসামি আইনুল ইসলাম নান্টা এবং ০৯ নং আসামি শফুকুল ইসলাম বাবু। থানা সূত্র আরও জানায়, আইনুল ইসলাম নান্টা জি.আর ৭৬৭/১৮ ও জি.আর ৪৬৫/২০২২ ও জি.আর ১২১/১৮ ও জি.আর ৫৮৮/১৫ এবং জি.আর ৩০৫/১৭ নং মামলার চার্জসিটভুক্ত আসামি। কিন্তু অদ্যাবদি স্থানীয় সরকার বিভাগ হতে তার বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্চছুক সাতক্ষীরা পৌরসভার এক কর্মকর্তা জানান, কিছু পুরাতন কাউন্সিলর পৌরসভা লুটেপুটে খাচ্ছে। তারা নিজেদের নামে পৌরসভার জায়গায় মার্কেট বনিয়েছে। ২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নিজের নামে ৬টি দোকান বরাদ্দ গ্রহণ করছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র কাজী ফিরোজ হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

একই বিষয়ে পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) নাজিম উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ বিষয়ে আমি অবগত নয়। আপনি তথ্য দিয়েছেন আমি যাচাই করে দেখবো।

প্রসঙ্গত, সাতক্ষীরা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো: তজকিন আমমেদ এর দুদকের অনুসন্ধান একদম শেষ পর্যায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। অনুসন্ধান শেখ হলে একই সাথে ফেঁসে যেতে পারেন পুরাতন কাউন্সিলররা।

বার্তা বাজার/জে আই