সরকার পতনের একদফা দাবি আদায় ছাড়া রাজপথ ছাড়বে না বিএনপি। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার পর হরতাল-অবরোধ থেকে বের হয়ে আসার কথা ভাবছে দলটি।

ভিন্ন কর্মসূচি হিসাবে বিক্ষোভ সমাবেশ, রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে জমায়েত কিংবা নির্বাচন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ ভবন ঘেরাও কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে। যদিও এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে মত রয়েছে নীতিনির্ধারকদের।

কেউ কেউ হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচির মাঝে বিরতির মধ্যে এসব কর্মসূচি পালনের পক্ষে। আবার কেউ হরতাল-অবরোধ থেকে বেরিয়ে এসে বিকল্প এসব কর্মসূচি পালনের পরামর্শ দিয়েছেন।

তবে কোনো কারণে পরিস্থিতি বিএনপির অনুকূলে এলে হরতাল-অবরোধের কর্মসূচিতেই থাকবে এমন আলোচনাও আছে।

চূড়ান্ত আন্দোলনের এক মাসের পর্যবেক্ষণসহ নতুন কর্মসূচি ঠিক করতে আগামীকাল সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়ালি বৈঠক করার কথা রয়েছে দলটির হাইকমান্ডের।

এছাড়া বিরোধী দলের নেতাকর্মীর ওপর অত্যাচার-নির্যাতন, গণগ্রেফতার, হয়রানি আর দ্রব্যমূল্যের ইস্যু কাজে লাগাতে চাইছে দলের হাইকমান্ড। রাজপথের আন্দোলন-বিরতির মধ্যে মাঠে নামানো হবে বিভিন্ন পেশাজীবী, নারী সংগঠনসহ গুম-খুন ও কারা নির্যাতিত পরিবারের সদস্যদের।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাজা ও কারাবন্দি নেতাদের পরিবারের সদস্যদের ‘প্রতিবাদী মানববন্ধন’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে থাকা সমমনা ও নির্বাচনের বাইরে থাকা বাম-ডান ও ইসলামি দলগুলো নিয়ে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের পরিকল্পনা করছে বিএনপি।

এর অংশ হিসাবে আজ ইসলামী আন্দোলনের ডাকা ‘জাতীয় সংলাপ’ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন দলটির দুই সিনিয়র নেতা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে নতুন ধরনের কর্মসূচির কথা ভাবা হচ্ছে। এ নিয়ে দলের নীতিনির্ধারকরা আলোচনা করছেন।

বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার আগে আন্দোলনের একটি পর্ব শেষ হবে। এরপর আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের দিনকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের আরেকটি পর্ব শুরু হবে। মনোনয়নপত্র জমার পর থেকে ভোটের দিনের মধ্যকার সময়ে বিক্ষোভ, পদযাত্রা ও ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচির মধ্যে থাকা নিয়ে আলোচনা চলছে। পরিস্থিতি বুঝে ফাঁকে ফাঁকে হরতালও দেওয়া হতে পারে।

তবে কোনো কারণে পরিস্থিতি বিএনপির অনুকূলে এলে ‘অসহযোগ’নাম দিয়ে হরতাল-অবরোধের কর্মসূচিতেই থাকবে।

স্থায়ী কমিটির সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে নেতারা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্বাপর পরিস্থিতির মূল্যায়ন করেন। নেতারা মনে করেন, হরতাল-অবরোধে জনগণের সমর্থন থাকলেও টানা কর্মসূচিতে সবার মধ্যে একঘেয়েমি তৈরি হচ্ছে। নেতাকর্মীদের মধ্যেও শৈথিল্য এসে গেছে। সেজন্যই বিকল্প কর্মসূচি, কিন্তু তা কঠোর হবে-এমনটা ভাবা হচ্ছে। তবে হরতাল-অবরোধের মতো কর্মসূচি থেকে বের হওয়া কঠিন বলেও মনে করেন অনেক নেতা।

তাদের মতে, কঠোর কর্মসূচি থেকে আবার বিক্ষোভ বা ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচিতে গেলে তৃণমূলের মনোবল ভেঙে যেতে পারে। তারা (তৃণমূল) এটিকে এক ধরনের পরাজয় হিসাবেও ভাবতে পারে। সেক্ষেত্রে সবার আগে তৃণমূলের পরামর্শও বিবেচনায় নিতে হবে।

বার্তা বাজার/জে আই